আর্টেমিস ২ নভোচারীরা পৃথিবীতে ফেরার পথে, অবতরণ হবে ১০ এপ্রিল
আর্টেমিস ২ নভোচারীরা ফিরছেন, অবতরণ ১০ এপ্রিল

আর্টেমিস ২ নভোচারীরা পৃথিবীতে ফিরছেন, অবতরণের তারিখ ঘোষণা

মার্কিন মহাকাশ সংস্থা নাসার আর্টেমিস ২ অভিযানের চার নভোচারী একটি ঐতিহাসিক চন্দ্রাভিযান সম্পন্ন করে এখন পৃথিবীর পথে ফিরছেন। এই যাত্রায় তাঁরা একটি নতুন রেকর্ড গড়েছেন, যা মহাকাশ গবেষণার ইতিহাসে একটি মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে।

অবতরণের সময় ও স্থান নির্ধারণ

নাসা সূত্রে জানা গেছে, সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে ১০ এপ্রিল ইস্টার্ন টাইম অনুযায়ী রাত ৮টা ৭ মিনিটের দিকে এই নভোচারীরা যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম উপকূলে অবস্থিত প্রশান্ত মহাসাগরে নিরাপদে অবতরণ করবেন। পৃথিবীতে ফিরতে তাঁদের প্রায় চার দিন সময় লাগবে, যা মহাকাশ যাত্রার একটি স্বাভাবিক সময়সীমা।

উদ্ধার ও স্বাস্থ্য পরীক্ষার প্রস্তুতি

পানিতে অবতরণের পর নভোচারীদের উদ্ধার করার জন্য হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হবে, যা একটি দ্রুত ও কার্যকর পদ্ধতি। এরপর তাঁদের কাছাকাছি অবস্থানে থাকা মার্কিন নৌবাহিনীর একটি জাহাজে স্থানান্তরিত করা হবে। জাহাজে পৌঁছানোর পর নভোচারীদের বিস্তারিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হবে, যাতে মহাকাশ যাত্রার প্রভাব মূল্যায়ন করা যায়। এরপর তাঁদের স্থলভাগের দিকে নিয়ে যাওয়া হবে আরও বিশ্রাম ও মূল্যায়নের জন্য।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অভিযানের সূচনা ও রেকর্ড গড়ার ঘটনা

১ এপ্রিল কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে ‘ওরিয়ন’ ক্যাপসুলে চড়ে এই অভিযান শুরু করেন চার নভোচারী। তাঁরা হলেন:

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
  • নাসার রিড ওয়াইজম্যান
  • নাসার ভিক্টর গ্লোভার
  • নাসার ক্রিস্টিনা কোচ
  • কানাডিয়ান স্পেস এজেন্সির জেরেমি হ্যানসেন

গত সোমবার যুক্তরাজ্যের সময় সন্ধ্যা সাতটার দিকে (বাংলাদেশ সময় রাত ১২টা) ওরিয়ন ক্যাপসুলটি চাঁদের পেছন অংশে পৌঁছায়। এই মুহূর্তে পৃথিবী থেকে তাঁদের দূরত্ব ছিল প্রায় ৪ লাখ ৬ হাজার ৭৮৮ কিলোমিটার বা প্রায় ২ লাখ ৫২ হাজার ৭৬০ মাইল, যা একটি নতুন রেকর্ড হিসেবে স্বীকৃত। এর আগে পৃথিবী থেকে এত দূরে কোনো মানুষ ভ্রমণ করেননি, যা আর্টেমিস ২ অভিযানকে বিশেষ মর্যাদা দিয়েছে।

পূর্বের রেকর্ডের সাথে তুলনা

এই নতুন রেকর্ডের আগে পৃথিবী থেকে সবচেয়ে দূরে যাওয়ার রেকর্ডটি ছিল প্রায় ৫৬ বছর আগের। ১৯৭০ সালের এপ্রিলে নাসার অ্যাপোলো ১৩ অভিযানে অংশ নেওয়া নভোচারীরা পৃথিবী থেকে প্রায় ৪ লাখ ১৭১ কিলোমিটার বা প্রায় ২ লাখ ৪৮ হাজার ৬৫৫ মাইল দূরে গিয়েছিলেন। আর্টেমিস ২ অভিযান সেই রেকর্ডকে অতিক্রম করে মহাকাশ অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে।

এই অভিযানটি মহাকাশ গবেষণা ও মানবজাতির সীমাহীন সম্ভাবনার দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। নভোচারীদের নিরাপদ ফেরত আসা এবং তাঁদের অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতের মিশনগুলোর জন্য মূল্যবান তথ্য সরবরাহ করবে।