চাঁদের পেছনে রেকর্ড ভ্রমণে আর্টেমিস-২ নভোচারীদের অভিনন্দন ট্রাম্পের
মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার আর্টেমিস-২ চন্দ্রাভিযানের অংশ হিসেবে সফলভাবে চাঁদের পেছনের অংশ ঘুরে আসা চার নভোচারীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ওরিয়ন মহাকাশযানে অবস্থানকারী ওই নভোচারীদের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন তিনি, যা এই ঐতিহাসিক মিশনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
পৃথিবী থেকে সবচেয়ে দূরবর্তী ভ্রমণের নতুন রেকর্ড
মানুষ হিসেবে এখন পর্যন্ত পৃথিবী থেকে সবচেয়ে দূরবর্তী জায়গায় ভ্রমণের নতুন রেকর্ড গড়েছেন মার্কিন আর্টেমিস-২–এর নভোচারীরা। তাঁদের বহনকারী ওরিয়ন মহাকাশযানটি যখন চাঁদের পেছন দিকে যায়, তখন পৃথিবীর সঙ্গে তাঁদের যোগাযোগ প্রায় ৪০ মিনিট বন্ধ থাকে। পরবর্তী সময়ে ওই অংশ ঘুরে আসার পর যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের হিউস্টনে অবস্থিত নিয়ন্ত্রণকক্ষের সঙ্গে তাঁদের আবারও যোগাযোগ স্থাপিত হয়।
এই অভিযানে নভোচারীরা পৃথিবী থেকে প্রায় ৪ লাখ ৬ হাজার ৭৮৮ কিলোমিটার বা ২ লাখ ৫২ হাজার ৭৬০ মাইল দূরে পৌঁছান, যা আগের রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। ১৯৭০ সালের এপ্রিলে নাসার অ্যাপোলো-১৩ অভিযানে অংশ নেওয়া নভোচারীরা যে রেকর্ড গড়েছিলেন, তা প্রায় ৫৬ বছর পর আর্টেমিস-২ ভেঙে ফেলেছে।
ট্রাম্পের ফোনালাপ ও নভোচারীদের অভিজ্ঞতা
পরে ট্রাম্প তাঁদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি আর্টেমিস মিশনের নভোচারীদের প্রশ্ন করেন, ‘হঠাৎ করে যখন সব যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেল, তখন আপনাদের কেমন অনুভূতি হয়েছিল?’ জবাবে নভোচারী ভিক্টর গ্লোভার বলেন, তিনি প্রথমে ‘একটু প্রার্থনা’ করেছিলেন। তবে এরপরই চাঁদের পেছন অংশের বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণের তথ্য সংগ্রহ করার জন্য তাঁকে কাজে মন দিতে হয়েছে।
গ্লোভার আরও বলেন, ‘আমরা খুব ব্যস্ত ছিলাম এবং কঠোর পরিশ্রম করছিলাম। সত্যি বলতে, সময়টা বেশ ভালোই কেটেছে।’ ট্রাম্প প্রশ্ন করে যেতে থাকেন। তিনি নভোচারীদের জিজ্ঞেস করেন, ঐতিহাসিক দিনটির সবচেয়ে অবিস্মরণীয় অংশ কী ছিল?
এর জবাবে নভোচারী রিড উইজম্যান বলেন, ‘প্রেসিডেন্টের ফোনকলটি নিশ্চয়ই আমাদের সবার জন্য খুবই বিশেষ।’ এরপর উইজম্যান বলতে থাকেন, ‘আমরা এমন কিছু দৃশ্য দেখেছি, যা কোনো মানুষ আগে কখনো দেখেনি, এমনকি অ্যাপোলো মিশনও নয়। এটি আমাদের জন্য সত্যিই অসাধারণ অভিজ্ঞতা ছিল।’
ভবিষ্যৎ মহাকাশ অভিযানের লক্ষ্য
এরপর উইজম্যান ব্যাখ্যা করেন, কীভাবে তাঁরা সূর্যগ্রহণ পর্যবেক্ষণ করেছেন। পাশাপাশি তিনি জানান, চার নভোচারী এটা ভেবে উত্তেজনা বোধ করছেন যে ভবিষ্যতে মানুষ শুধু পৃথিবীতেই নয়; বরং দুটি গ্রহে বসবাস করবে। মঙ্গল গ্রহে ভবিষ্যৎ অভিযানের লক্ষ্যের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি এ কথা বলেছেন।
আলাপচারিতার শেষে ট্রাম্প বলেন, নভোচারীদের অভিযান শেষ হলে তিনি হোয়াইট হাউসে আর্টেমিস দলের সঙ্গে দেখা করবেন। ট্রাম্প বলেন, ‘আপনারা জানেন, আমিও খুব ব্যস্ত আছি। কিন্তু আমি অবশ্যই সময় বের করে নেব।’
এই অভিযানটি মহাকাশ গবেষণার ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে মঙ্গল গ্রহে অভিযানের পথ প্রশস্ত করতে পারে। নভোচারীদের এই সাফল্য বিশ্বব্যাপী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্প্রদায়কে অনুপ্রাণিত করছে।



