পৃথিবী থেকে সবচেয়ে দূরবর্তী স্থানে নভোচারীদের নতুন রেকর্ড
মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার আর্টেমিস-২ চন্দ্রাভিযানে অংশ নেওয়া চার নভোচারী একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক অর্জন করেছেন। গতকাল সোমবার গ্রিনিচ মান সময় বিকেল ৩টা ৫৮ মিনিটে, যখন তাঁরা চাঁদের পেছন দিকে সবচেয়ে দূরবর্তী জায়গায় পৌঁছান, তখন পৃথিবী থেকে তাঁদের দূরত্ব ছিল প্রায় ৪ লাখ ৬ হাজার ৭৮৮ কিলোমিটার বা প্রায় ২ লাখ ৫২ হাজার ৭৬০ মাইল। এই অভিযানের মাধ্যমে, পৃথিবী থেকে এত দূরত্বে কোনো মানুষ ভ্রমণের নতুন রেকর্ড গড়া হয়েছে, যা আগের রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে।
যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা এবং পুনঃসংযোগ
নভোচারীদের বহনকারী যানটি যখন চাঁদের পেছন দিকে যায়, তখন পৃথিবীর সঙ্গে তাঁদের যোগাযোগ প্রায় ৪০ মিনিটের জন্য বন্ধ থাকে। এই সময়কালে, মহাকাশযানটি চাঁদের অন্ধকার দিক অতিক্রম করে এবং পরবর্তীতে ওই অংশ ঘুরে আসার পর যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের হিউস্টনে অবস্থিত নাসার নিয়ন্ত্রণকক্ষের সঙ্গে আবারও যোগাযোগ স্থাপিত হয়। এই যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা এবং পুনঃসংযোগ প্রক্রিয়া অভিযানের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা মহাকাশ গবেষণায় নতুন সম্ভাবনা উন্মোচন করে।
আগের রেকর্ডের তুলনা
আর্টেমিস-২ অভিযানের এই নতুন রেকর্ডটি প্রায় ৫৬ বছর আগের একটি ঐতিহাসিক ঘটনাকে ছাড়িয়ে গেছে। ১৯৭০ সালের এপ্রিলে, নাসার অ্যাপোলো-১৩ অভিযানে অংশ নেওয়া নভোচারীরা পৃথিবী থেকে সবচেয়ে দূরবর্তী জায়গায় ভ্রমণ করেছিলেন। সেই সময়, তাঁরা পৃথিবী থেকে প্রায় ৪ লাখ ১৭১ কিলোমিটার বা প্রায় ২ লাখ ৪৮ হাজার ৬৫৫ মাইল দূরে গিয়েছিলেন। আর্টেমিস-২ অভিযান এই দূরত্বকে উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করেছে, যা মহাকাশ অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে একটি বড় অগ্রগতি নির্দেশ করে।
অভিযানের গুরুত্ব এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
আর্টেমিস-২ অভিযান শুধুমাত্র একটি রেকর্ড গড়াই নয়, বরং এটি চাঁদে মানুষের উপস্থিতি পুনরুদ্ধার এবং ভবিষ্যতে মঙ্গল গ্রহে অভিযানের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। নাসার এই প্রচেষ্টা মহাকাশ গবেষণায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে, যা বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার এবং প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনে অবদান রাখবে। চাঁদের এই ছবি ওরিয়ন মহাকাশযান থেকে তোলা হয়েছে, যা এই অভিযানের সাফল্যের একটি দৃশ্যমান প্রমাণ হিসেবে কাজ করছে।



