নাসার আর্টেমিস ২ মিশনে অর্গান-অন-এ-চিপ প্রযুক্তির অভিনব প্রয়োগ
নাসার আর্টেমিস ২ মিশন বর্তমানে চাঁদের দিকে এগিয়ে চলেছে, যা ভবিষ্যতে চন্দ্রাভিযান ও দীর্ঘমেয়াদী মহাকাশ অভিযানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করবে। তবে, মহাকাশের বিকিরণ ও মাইক্রোগ্র্যাভিটি মানবদেহে কী প্রভাব ফেলে, তা বুঝতে এই মিশনে প্রথমবারের মতো অ্যাভাটার নামক একটি অনন্য পরীক্ষা চালানো হচ্ছে।
অর্গান-অন-এ-চিপ: জীবন্ত কোষের মাধ্যমে মানব অঙ্গের অনুকরণ
অ্যাভাটার পরীক্ষায় ব্যবহৃত হচ্ছে অর্গান-অন-এ-চিপ প্রযুক্তি। এগুলো তরলে পূর্ণ ফ্ল্যাশ ড্রাইভের মতো ছোট ডিভাইস, যার ভেতরে জীবন্ত মানবকোষ সংরক্ষিত থাকে। এই চিপগুলো এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে যেন তারা মানুষের বিভিন্ন অঙ্গের মতো আচরণ করতে পারে। যেকোনো ব্যক্তির কোষ চাষ করে চিপে স্থাপন করা সম্ভব, ফলে এটি ওই ব্যক্তির অঙ্গের হুবহু প্রতিক্রিয়া প্রদর্শন করে।
বিজ্ঞানীরা ২০১০ সাল থেকে পৃথিবীতে এই মডেল নিয়ে গবেষণা করছেন, যা নতুন ওষুধের প্রভাব বা চাপে শরীরের সাড়া বুঝতে সহায়তা করেছে। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের উইস ইনস্টিটিউট ফর বায়োলজিক্যালি ইনস্পায়ার্ড ইঞ্জিনিয়ারিং-এর ডোনাল্ড ইংবারের ল্যাবরেটরি এক দশকেরও বেশি আগে এই প্রযুক্তি প্রথম তৈরি করেছিল।
মহাকাশে অ্যাভাটার পরীক্ষার গুরুত্ব
অর্গান-অন-এ-চিপ প্রযুক্তি ইতিমধ্যে ইন্টারন্যাশনাল স্পেস স্টেশনে সফলভাবে পরীক্ষা করা হয়েছে, কিন্তু আর্টেমিস ২ মিশন মহাকাশের গভীরে যাওয়ায় এটি চাঁদের চারপাশের বিকিরণ ও শূন্য অভিকর্ষের প্রভাব সম্পর্কে নতুন ধারণা দেবে। এই মিশনের স্পেসক্রাফট ইন্টিগ্রিটিতে চার নভোচারীর অস্থিমজ্জার কোষ সমৃদ্ধ চিপ স্থাপন করা হয়েছে, সাথে পৃথিবীতেও একই সেট রাখা হয়েছে।
মহাকাশ থেকে ফিরে আসার পর, গবেষকেরা সিঙ্গেল-সেল আরএনএ সিকোয়েন্সিং-এর মাধ্যমে কোষের জিনগত পরিবর্তন বিশ্লেষণ করবেন, যা দূরপাল্লার মহাকাশযাত্রার শারীরিক প্রভাব বিস্তারিতভাবে বুঝতে সাহায্য করবে।
ভবিষ্যতের মহাকাশ চিকিৎসায় সম্ভাবনা
নাসার এমস রিসার্চ সেন্টারের সায়েন্স ডিরেক্টরেটের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক অ্যান্থনি কোলাপ্রেটের মতে, এই অর্জন ভবিষ্যতে আরও নভোচারী পাঠানোর সময় অত্যন্ত কার্যকরী হবে। অর্গান-অন-এ-চিপ প্রযুক্তি সরাসরি মানবকোষ ব্যবহার করে ওষুধ ও ভ্যাকসিন পরীক্ষা করতে দেয়, যা প্রাণীর উপর পরীক্ষার তুলনায় বেশি নিখুঁত তথ্য প্রদান করে।
চিপগুলোর ছোট আকার ভবিষ্যতের চন্দ্রাভিযানে বেশি পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ সৃষ্টি করবে, এবং ব্যক্তিগত মেডিকেল কিট উন্নয়নে সহায়তা করবে। কোলাপ্রেট উল্লেখ করেন, মহাকাশযানে ওজন সীমাবদ্ধতার কারণে প্রয়োজনীয় ওষুধ আগে থেকে চিহ্নিত করার এই ক্ষমতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ডোনাল্ড ইংবার বলেন, তার তৈরি প্রযুক্তি মহাকাশে যাওয়াটা একটি অসাধারণ অনুভূতি, যা তাকে ষাটের দশকের মহাকাশ অভিযান থেকে অনুপ্রাণিত করেছিল। এই উদ্ভাবনী পদক্ষেপ মহাকাশ বিজ্ঞান ও চিকিৎসা গবেষণায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে।



