৫৪ বছর পর আবারও চাঁদের পথে মানুষ: নাসার আর্টেমিস-২ মিশন সফলভাবে শুরু
৫০ বছরের বেশি সময় পর আবারও চাঁদে যাচ্ছে মানুষ। মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা আর্টেমিস-২ মহাকাশ অভিযান সফলভাবে শুরু করেছে, যা ৫৪ বছর পর আবারও চাঁদের পথে মানুষের পদচিহ্ন রাখতে চলেছে। স্থানীয় সময় বুধবার (১ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৬টা ৩৫ মিনিটে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে এই অভিযান শুরু হয়, যেখানে হাজার হাজার মানুষ উৎক্ষেপণ প্রত্যক্ষ করতে জড়ো হয়েছিল।
চার নভোচারীর ঐতিহাসিক যাত্রা
চাঁদকে কেন্দ্র করে এই ঐতিহাসিক যাত্রায় রয়েছেন চার নভোচারী: তিনজন মার্কিন ও একজন কানাডীয়। তারা হলেন যুক্তরাষ্ট্রের রিড উইজম্যান, ভিক্টর গ্লোভার ও ক্রিস্টিনা কক এবং কানাডার জেরেমি হ্যানসেন। ৩২ তলা বিশিষ্ট রকেটটি কেপ ক্যানাভেরালে অবস্থিত নাসার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে উড্ডয়ন করে, এবং রকেট উৎক্ষেপণের সময় নাসার কর্মী ও উপস্থিত দর্শনার্থীরা উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন।
উৎক্ষেপণের আগের মুহূর্ত ও বক্তব্য
আর্টেমিস-২ মিশনের উৎক্ষেপণের আগে চূড়ান্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার সময় নভোচারীরা সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন। কানাডিয়ান নভোচারী জেরেমি হ্যানসেন বলেন, ‘আমরা সমগ্র মানবজাতির পক্ষ থেকে চন্দ্রাভিযানে যাচ্ছি।’ এরপর লঞ্চ ডিরেক্টর চার্লি ব্ল্যাকওয়েল-থম্পসন সরাসরি নভোচারীদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখেন: ‘রিড, ভিক্টর, ক্রিস্টিনা ও জেরেমি—এই ঐতিহাসিক মিশনে আপনারা সঙ্গে করে নিয়ে যাচ্ছেন আর্টেমিস-২ দলের হৃদয়, বিশ্বজুড়ে আমাদের অংশীদারদের সমর্থন এবং নতুন প্রজন্মের আশা-স্বপ্ন। শুভকামনা। ঈশ্বর আপনাদের সহায় হোন। এগিয়ে চলুক আর্টেমিস-২।’
মিশনের পরিকল্পনা ও লক্ষ্য
প্রথম ধাপে মহাকাশযানটির নির্ভরযোগ্যতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে, কারণ এটি আগে কখনও মানুষ বহন করেনি। এরপর তারা প্রায় ১০ দিনের অভিযানে চাঁদের চারপাশে প্রদক্ষিণ করবেন, যদিও সেখানে অবতরণ করবেন না। এছাড়া ডকিং সিমুলেশনের সময় মহাকাশযানটির ম্যানুয়াল নিয়ন্ত্রণ সক্ষমতাও পরীক্ষা করা হবে। ২০২৮ সালে আর্টেমিস-ফোর মিশনের মাধ্যমে চাঁদের মাটিতে পুনরায় পা রাখার চূড়ান্ত পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। ১৯৭২ সালের অ্যাপোলো মিশনের পর এটিই হবে নাসার প্রথম চন্দ্রপৃষ্ঠে অবতরণের প্রস্তুতি, যা মানবজাতির জন্য একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করছে।



