৫৩ বছর পর আবার চাঁদের পথে যুক্তরাষ্ট্র, আর্টেমিস-২ মিশনে চার নভোচারী
৫৩ বছর পর চাঁদের পথে যুক্তরাষ্ট্র, আর্টেমিস-২ মিশন শুরু

৫৩ বছর পর আবার চাঁদের পথে যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহাসিক যাত্রা

যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় বুধবার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে চাঁদের উদ্দেশে পাড়ি জমিয়েছে নাসার আর্টেমিস-২ মিশনের চার নভোচারী। ১৯৭২ সালে অ্যাপোলো-১৭ মিশনের পর এই প্রথম কোনো মানুষ চাঁদের পথে রওনা হয়েছে, যা মহাকাশ অভিযানের ইতিহাসে একটি মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে।

আর্টেমিস-২ মিশনের চার সাহসী নভোচারী

এই মিশনে অংশ নিচ্ছেন নাসার রিড ওয়াইজম্যান, ভিক্টর গ্লোভার ও ক্রিস্টিনা কোচ এবং কানাডিয়ান স্পেস এজেন্সির জেরেমি হ্যানসেন। তাঁরা ইতিমধ্যে ওরিয়ন ক্যাপসুলে প্রবেশ করেছেন, যার নাম দেওয়া হয়েছে ইন্টেগ্রিটি। নভোচারীদের মতে, বিশ্বাস, শ্রদ্ধা, স্পষ্টবাদিতা ও বিনয়—এই মূল্যবোধগুলো প্রতিফলিত করতেই এই নাম বেছে নেওয়া হয়েছে।

ওরিয়ন ক্যাপসুলটি প্রায় ১৫ ফুট চওড়া ও ৯ ফুট উঁচু, যা কক্ষপথে পৌঁছানোর পর নভোচারীরা ভেতরে জায়গা বাড়াতে বসার আসনগুলো গুটিয়ে ফেলবেন। ১০ দিনের এই মিশনে তাঁরা চাঁদের চারপাশ ঘুরে পৃথিবীতে ফিরে আসবেন, যা ভবিষ্যতে চাঁদে নিয়মিত যাতায়াত শুরু করার একটি পরীক্ষামূলক পদক্ষেপ।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ট্রাম্পের বার্তা ও মহাকাশ প্রতিযোগিতা

এই যাত্রার আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক বার্তায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ৫০ বছরের বেশি সময় পর আমেরিকা আবারও চাঁদে যাচ্ছে! তিনি আরও উল্লেখ করেন যে আর্টেমিস-২ নভোচারীদের মহাকাশের অনেক গভীরে নিয়ে যাচ্ছে, যেখানে আগে কোনো মানুষ পৌঁছাতে পারেনি। ট্রাম্প নভোচারীদের জন্য ঈশ্বরের আশীর্বাদ প্রার্থনাও করেছেন।

চীনের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান মহাকাশ প্রতিযোগিতার মুখে যুক্তরাষ্ট্রের এই মিশনকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হচ্ছে। চীনও ২০৩০ সালের মধ্যে চাঁদে নভোচারী পাঠানোর লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে, যা আন্তর্জাতিক মহাকাশ গবেষণায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ভবিষ্যতের লক্ষ্য ও বিশেষজ্ঞদের মতামত

নাসা ২০২৮ সালের মধ্যে চাঁদের দুর্গম দক্ষিণ মেরুতে আবার নভোচারী অবতরণের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। আর্টেমিস-২ মিশনের বিশেষজ্ঞ ক্রিস্টিনা কোচ বলেন, চাঁদ হচ্ছে সৌরজগৎ সৃষ্টির এক সাক্ষী এবং মঙ্গলে যাওয়ার একটি সোপান। এখন প্রশ্ন এটা নয় যে আমরা সেখানে যাব কি না; প্রশ্ন হলো, আমরা কি সেখানে নেতৃত্ব দেব নাকি অন্য কাউকে অনুসরণ করব?

ভবিষ্যতে চাঁদের খনিজ সম্পদ আহরণ এবং মঙ্গলের মতো আরও কঠিন অভিযানের প্রস্তুতি নেওয়ার ক্ষেত্রে এই মিশনের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। এই মিশন শুধু বৈজ্ঞানিক অগ্রগতিই নয়, বরং বিশ্বব্যাপী মহাকাশ আধিপত্যের প্রতিযোগিতায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।