গ্রহাণু 'অ্যাপোফিস' অভিযান: ২০২৯ সালে ল্যান্ডার অবতরণের পরিকল্পনা করছে এক্সল্যাবস
মহাবিশ্বের রহস্যময় জগতে গ্রহাণুগুলোর গঠন ও ভর সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে একটি অভিনব পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বেসরকারি মহাকাশ গবেষণা সংস্থা এক্সল্যাবস। সংস্থাটির বিজ্ঞানীরা পৃথিবীর কাছাকাছি আসা একটি গ্রহাণুতে নিজেদের তৈরি ল্যান্ডার বা চন্দ্রযান অবতরণের পরিকল্পনা করেছেন। এই লক্ষ্যে 'অ্যাপোফিস-এক্সএল' নামের একটি মহাকাশযান তৈরি করা হচ্ছে, যা ২০২৯ সালের এপ্রিলে গ্রহাণু 'অ্যাপোফিস'-এর পৃষ্ঠে দুটি ল্যান্ডার অবতরণ করাবে।
গ্রহাণু 'অ্যাপোফিস' সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
বিজ্ঞানীদের প্রদত্ত তথ্য অনুসারে, ২০০৪ সালে আবিষ্কৃত অ্যাপোফিস গ্রহাণুটি চওড়ায় প্রায় ৩৪০ মিটার, যা নিউইয়র্কের এম্পায়ার স্টেট ভবনের প্রায় সমান আকৃতির। এই গ্রহাণুটি ২০২৯ সালে পৃথিবীর খুব কাছ দিয়ে চলে যাওয়ার সময় এক্সল্যাবসের মহাকাশযানটি দুটি ল্যান্ডার তার পৃষ্ঠে পাঠাবে। জুতার বক্সের সমান আকৃতির এই ল্যান্ডারগুলো গ্রহাণুটির পৃষ্ঠে অবতরণের সময় এবং পরবর্তীতে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও ছবি সংগ্রহ করে পৃথিবীতে পাঠাবে।
অভিযানের লক্ষ্য ও প্রক্রিয়া
এক্সল্যাবসের প্রধান বিজ্ঞানী মিগুয়েল পাসকুয়ালের মতে, 'আমাদের লক্ষ্য হলো গ্রহাণুর পৃষ্ঠ থেকে সরাসরি ছবি সংগ্রহ করা। এটি বিজ্ঞানের জন্য অত্যন্ত রোমাঞ্চকর একটি মুহূর্ত হতে যাচ্ছে।' পরিকল্পনা অনুযায়ী, অ্যাপোফিস গ্রহাণুটি পৃথিবী অতিক্রম করার প্রায় এক সপ্তাহ পর ল্যান্ডারের অবতরণ প্রক্রিয়া শুরু হবে, যাতে গ্রহাণুটির কক্ষপথে কোনো প্রভাব না পড়ে। এরপর অ্যাপোফিস গ্রহাণুর ৪০০ মিটার ওপর থেকে ল্যান্ডারগুলো মহাকাশযান থেকে মুক্ত করে দেওয়া হবে।
ভবিষ্যৎ গ্রহাণু প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার গুরুত্ব
এই অভিযানের সফলতা ভবিষ্যতে পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসা গ্রহাণুগুলোর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যদি কোনো গ্রহাণু সরাসরি পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসে, তবে সেটি ধ্বংস বা গতিপথ বদলের কৌশল জানার জন্য গ্রহাণুর গঠন ও ভর সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকা প্রয়োজন। এক্সল্যাবসের এই অভিযান গ্রহাণুর গঠন ও উপাদান সম্পর্কে মূল্যবান তথ্য সরবরাহ করবে, যা ভবিষ্যৎ প্রতিরক্ষা কৌশল প্রণয়নে সহায়তা করবে।
মহাকাশযান 'অ্যাপোফিস-এক্সএল'-এ ১০টির বেশি আকারে ছোট মহাকাশযান ও দুটি ল্যান্ডার বহন করা যাবে, যা গ্রহাণু গবেষণার ক্ষেত্রে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিজ্ঞানীরা আশা করছেন, এই অভিযানের মাধ্যমে সংগ্রহীত তথ্য মহাকাশ বিজ্ঞানের অগ্রগতিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।



