ফেব্রুয়ারির আকাশে বাংলাদেশের জন্য জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক মহোৎসব
ফেব্রুয়ারি মাসের শুরু থেকেই সূর্যাস্তের পরপর পশ্চিম দিগন্তে গ্রহদের আনাগোনা শুরু হয়েছে, যা ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সন্ধ্যার পর বাংলাদেশের আকাশে বেশ কিছু চমৎকার জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ঘটনা উপহার দিচ্ছে। এই সময়ে আকাশপ্রেমীরা বিরল মহাজাগতিক দৃশ্য উপভোগ করতে পারবেন, যার মধ্যে রয়েছে গ্রহদের সমাবেশ এবং চাঁদের সাথে নক্ষত্রপুঞ্জের মিলন।
অমাবস্যার রাত ও গ্রহদের অবস্থান
১৭ ফেব্রুয়ারি অমাবস্যা হবে, যার ফলে আকাশে চাঁদ থাকবে না এবং আকাশ বেশ অন্ধকার থাকবে। এই অন্ধকার রাত নক্ষত্র পর্যবেক্ষণের জন্য চমৎকার সুযোগ সৃষ্টি করবে। ১৮ ও ১৯ ফেব্রুয়ারি নতুন চাঁদের কাছে বুধ ও শনি গ্রহ অবস্থান করবে, যা পশ্চিম দিগন্তে সূর্যাস্তের ঠিক পর দেখা যাবে। ১৯ ফেব্রুয়ারি বুধ গ্রহ সূর্য থেকে সবচেয়ে দূরে অবস্থান করবে, যার ফলে সূর্যাস্তের পর পশ্চিম আকাশে বুধকে দেখার জন্য এটিই হবে সবচেয়ে উপযুক্ত সময়।
চাঁদের সাথে নক্ষত্রপুঞ্জ ও গ্রহদের মিলন
২৩ ফেব্রুয়ারি চাঁদ ও বিখ্যাত নক্ষত্রপুঞ্জ প্লাইয়াডিস বা কৃত্তিকা নক্ষত্রমণ্ডলী একে অপরের খুব কাছাকাছি অবস্থান করবে, যা দক্ষিণ-পশ্চিম আকাশে দেখা যাবে। ২৪ ফেব্রুয়ারি চাঁদকে অর্ধেক আলোকিত অবস্থায় সন্ধ্যার পর আকাশে দেখা যাবে। ২৬ ও ২৭ ফেব্রুয়ারি চাঁদের খুব কাছেই বৃহস্পতি গ্রহের দেখা মিলবে, যা আকাশপ্রেমীদের জন্য একটি আকর্ষণীয় দৃশ্য হবে।
বিরল গ্রহ সমাবেশ
ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহে একটি বিরল মহাজাগতিক দৃশ্য দেখা যাবে, যখন আকাশের একই দিকে একসঙ্গে বুধ, শুক্র, শনি, নেপচুন, ইউরেনাস ও বৃহস্পতি গ্রহ অবস্থান করবে। ২৮ ফেব্রুয়ারি এই সমাবেশ সবচেয়ে স্পষ্ট দেখা যাবে। সূর্যাস্তের ঠিক পরপরই পশ্চিম দিগন্তের খুব কাছে দেখা যাবে বুধ, শুক্র ও শনি গ্রহকে। অন্যদিকে বৃহস্পতি গ্রহ সন্ধ্যার পর মাথার ওপরে উজ্জ্বলভাবে দৃশ্যমান হবে। তবে ইউরেনাস ও নেপচুন গ্রহ দুটি খালি চোখে দেখা কঠিন হবে; ইউরেনাস দেখার জন্য দুরবিন এবং নেপচুন দেখার জন্য টেলিস্কোপের প্রয়োজন হবে।
এই জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ঘটনাগুলো বাংলাদেশের আকাশপ্রেমীদের জন্য একটি অনন্য অভিজ্ঞতা সৃষ্টি করবে, যা মহাকাশের রহস্য ও সৌন্দর্য উপলব্ধি করতে সাহায্য করবে। সূত্র: অ্যাস্ট্রনমি ডটকম, দ্য স্কাই লাইভ ডটকম।
