২০২৬ সালের প্রথম বলয়গ্রাস সূর্যগ্রহণ আজ, বাংলাদেশে দেখা যাবে না
বলয়গ্রাস সূর্যগ্রহণ আজ, বাংলাদেশে দেখা যাবে না

২০২৬ সালের প্রথম বলয়গ্রাস সূর্যগ্রহণ আজ, বাংলাদেশে দেখা যাবে না

আজ ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে বিশ্বের আকাশে বছরের প্রথম বলয়গ্রাস সূর্যগ্রহণ ঘটবে। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। এই সূর্যগ্রহণটি একটি বিরল মহাজাগতিক ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা জ্যোতির্বিজ্ঞানপ্রেমীদের জন্য বিশেষ আকর্ষণীয়।

গ্রহণের সময়সূচি ও স্থায়িত্ব

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ২০২৬ সালের প্রথম এই সূর্যগ্রহণটি বাংলাদেশ সময় আজ সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) বিকাল ৫টা ৫৬ মিনিট ৩৬ সেকেন্ডে শুরু হবে এবং রাত ৮টা ২৭ মিনিট ৩৬ সেকেন্ডে গ্রহণটি শেষ হবে। এই সময়কালে চাঁদ সূর্যের সামনে এসে একটি বলয় বা রিং তৈরি করবে, যা বলয়গ্রাস সূর্যগ্রহণের বৈশিষ্ট্য। গ্রহণটি মোট প্রায় ২ ঘণ্টা ৩১ মিনিট স্থায়ী হবে, যা পর্যবেক্ষকদের জন্য দীর্ঘ সময়ের অভিজ্ঞতা প্রদান করবে।

দেখার সুযোগ ও সীমাবদ্ধতা

আইএসপিআর আরও জানিয়েছে, গ্রহণটি চলাকালীন বাংলাদেশে সন্ধ্যা ও রাত থাকবে বলে এ দেশ থেকে এটি দেখা যাবে না। এই সময়ে বাংলাদেশে সূর্যাস্ত হয়ে যাওয়ায় আকাশ অন্ধকারাচ্ছন্ন থাকবে, ফলে সূর্যগ্রহণ প্রত্যক্ষ করার কোনো সম্ভাবনা নেই। তবে আর্জেন্টিনা, চিলি, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং অ্যান্টার্কটিকা মহাদেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে এই সূর্যগ্রহণটি সরাসরি প্রত্যক্ষ করা যাবে। এই দেশগুলোতে দিনের আলো থাকায় গ্রহণটি স্পষ্টভাবে দেখা যাবে, যা জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা।

বলয়গ্রাস সূর্যগ্রহণের বৈশিষ্ট্য

বলয়গ্রাস সূর্যগ্রহণ একটি বিশেষ ধরনের সূর্যগ্রহণ, যেখানে চাঁদ সূর্যকে সম্পূর্ণভাবে ঢেকে ফেলে না, বরং সূর্যের চারপাশে একটি উজ্জ্বল বলয় বা রিং তৈরি করে। এই ঘটনাটি তখনই ঘটে যখন চাঁদ পৃথিবী থেকে অপেক্ষাকৃত দূরে অবস্থান করে এবং তার আপাত আকার সূর্যের চেয়ে ছোট হয়। এটি একটি দর্শনীয় মহাজাগতিক দৃশ্য, যা বিশ্বব্যাপী জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু।

এই সূর্যগ্রহণটি ২০২৬ সালের প্রথম এবং গুরুত্বপূর্ণ মহাজাগতিক ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। আইএসপিআরের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, বাংলাদেশের মানুষরা সরাসরি দেখতে না পারলেও অনলাইন বা লাইভ স্ট্রিমিংয়ের মাধ্যমে এই ঘটনা পর্যবেক্ষণ করতে পারেন। আগামী বছরগুলোতে আরও সূর্যগ্রহণের সম্ভাবনা রয়েছে, যা বাংলাদেশ থেকে দেখা যেতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।