গাজায় যুদ্ধবিরতির পরও এক হাজার মানুষের প্রাণহানি, মানবিক পরিস্থিতি নাজুক
গাজায় যুদ্ধবিরতির পরও এক হাজার নিহত, পরিস্থিতি নাজুক

ইসরায়েলের নির্বিচার হামলায় গাজা নগরী এখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। ধ্বংসস্তূপের মধ্যে তাঁবুতে বসবাস করছেন সেখানকার বাস্তুচ্যুত মানুষ। ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চলার মধ্যেই ইসরায়েলের হামলায় ফিলিস্তিনের গাজায় এখন পর্যন্ত এক হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। এর ফলে অবরুদ্ধ উপত্যকাটির মানবিক পরিস্থিতি এখনো নাজুক রয়ে গেছে।

হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধবিরতি

হামাস নিয়ন্ত্রিত গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় গতকাল বুধবার এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে। ফিলিস্তিনিদের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র সংগঠন হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে গত অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। এরপরও ইসরায়েলি হামলা থামেনি।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গত অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি কার্যকরের পর থেকে এ পর্যন্ত গাজায় বিভিন্ন হামলায় এক হাজার পাঁচজন নিহত হয়েছেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মানবিক পরিস্থিতি ও হাসপাতালের অবস্থা

যুক্তরাজ্যের দাতব্য প্রতিষ্ঠান মেডিক্যাল এইড ফর প্যালেস্টানিয়ানসের গাজা–বিষয়ক পরিচালক ফিকর শালতুত বলেন, ‘গাজা আরও একটি মর্মান্তিক মাইলফলকে পৌঁছানোয় আমরা শোকাহত। সেখানকার হাজার হাজার মানুষকে বলা হয়েছিল, সবচেয়ে খারাপ সময়টা কেটে গেছে। কিন্তু তাঁরা এখনো তাঁদের প্রিয়জনদের দাফন করছেন।’

যুদ্ধবিরতি গাজায় বড় পরিসরে লড়াই হয়তো থামিয়েছে, কিন্তু এর পরবর্তী স্তরে যেতে দুই পক্ষ এখনো চূড়ান্ত কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে পারেনি। অথচ এর পরবর্তী পর্যায়ে গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের কথা ছিল। হামাসকেও নিরস্ত্রীকরণের কথাও ছিল। এসব অধরা রয়ে গেছে।

অক্টোবরের পর থেকে বিভিন্ন সময় গাজা উপত্যকায় নিজেদের সামরিক উপস্থিতি জানান দিয়েছে ইসরায়েল। হামলা চালানো হয়েছে। বলা হচ্ছে, বর্তমানে গাজা উপত্যকার প্রায় ৬৪ শতাংশ ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

হামাসের অবস্থান ও ভবিষ্যৎ

এ মাসের শুরুর দিকে হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য হুসাম বদরান আল–জাজিরাকে বলেছিলেন, হামাস এখনই অস্ত্র সমর্পণ করবে না। অন্য ফিলিস্তিনি দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার পরই অস্ত্রভান্ডারের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করা হবে।

সেই সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতি গাজায় ভঙ্গুর স্বাস্থ্যব্যবস্থার পুনর্গঠন শুরু করার একটি সুযোগ এনে দেবে বলেও আশা করা হয়েছিল। জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক সমন্বয় অফিসের (ওসিএইচএ) তথ্য অনুযায়ী, গাজা উপত্যকায় ৩৭টি হাসপাতালের মধ্যে মাত্র ২০টি আংশিক কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। উপত্যকাটিতে বর্তমানে একটি হাসপাতালও পুরোপুরি কার্যক্রম পরিচালনা করার মতো অবস্থায় নেই।

সর্বাত্মক যুদ্ধের পরিসংখ্যান

গাজার সরকারি তথ্য বলছে, ২০২৩ সালের ২৩ অক্টোবর গাজায় সর্বাত্মক যুদ্ধ শুরু করে ইসরায়েল। এর পর থেকে উপত্যকাটিতে ৭৩ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। গাজার বেশির ভাগ এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। সেখানকার প্রায় ১৯ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।