ইরানে শান্তিচুক্তি বিরোধী বিক্ষোভ, পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি
ইরানে শান্তিচুক্তি বিরোধী বিক্ষোভ, মন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি

ইরানের রাজধানী তেহরানের একটি সড়কে দেশটির জাতীয় পতাকা হাতে এক নারী। ১০ জুন ২০২৬ছবি: রয়টার্স

বিক্ষোভের সূত্রপাত

যুদ্ধ বন্ধে তেহরান–ওয়াশিংটন একটি সমঝোতা চুক্তির আলোচনা যখন চলছে, তখন তার বিরোধিতা করে বিক্ষোভ হয়েছে ইরানে। কট্টরপন্থিদের এই বিক্ষোভ থেকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির বিরুদ্ধে স্লোগানও ওঠে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই যুদ্ধ বন্ধে সমঝোতা চুক্তির আলোচনা প্রায় চূড়ান্ত করে এনেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। আজ রোববার এই চুক্তি সই হবে বলে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে। সমঝোতা চূড়ান্ত বললেও ইরানের পক্ষ থেকে চুক্তি সইয়ের সময় নিয়ে সংশয় রাখা হয়েছে।

মাশহাদে বিক্ষোভ

এর মধ্যেই গতকাল শনিবার ইরানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর মাশহাদে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি কার্যালয়ের সামনে কয়েক ডজন মানুষ বিক্ষোভ করে। ইরানের ফার্স নিউজ এজেন্সির প্রকাশিত এক ভিডিওতে দেখা যায়, কালো চাদর পরা কয়েকজন নারী মন্ত্রণালয়ের ওই ভবনের সামনে দাঁড়িয়ে ‘আরাগচি নিপাত যাক’ বলে স্লোগান দিচ্ছেন। তাঁদের হাতে ছিল ইরানের পতাকা।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য

এর আগে গত শুক্রবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতা চুক্তি নিয়ে সম্ভাবনার কথা বলেছিলেন। চুক্তির খসড়ায় ইরানের বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ প্রত্যাহারের কথা রয়েছে বলে আরাগচি জানিয়েছিলেন। হরমুজ প্রণালিতে ইরানের আরোপিত অবরোধের জবাবে যুক্তরাষ্ট্র এই অবরোধ দিয়েছিল। আরাগচি আরও বলেন, ‘হরমুজ প্রণালির ব্যবস্থাপনা আগের মতো থাকবে না।’ তিনি এই জলপথকে ইরানের ‘প্রধান প্রতিরোধমূলক হাতিয়ারগুলোর একটি’ বলে উল্লেখ করেন।

চুক্তি সইয়ের সম্ভাবনা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তান গতকাল জানায়, যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে আলোচিত চুক্তিটি আজ রোববারের মধ্যেই সই হতে পারে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

কট্টরপন্থীদের আপত্তি

ইরানের কট্টরপন্থীদের দাবি, আলোচিত চুক্তিটি দেশটির স্বার্থ রক্ষা করবে না। তাদের মতে, চুক্তি কার্যকর হলে হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে ইরানের কৌশলগত প্রভাব দুর্বল হয়ে পড়বে। চুক্তি করতে গিয়ে ইরানের আলোচকেরা যুক্তরাষ্ট্রকে অতিরিক্ত ছাড় দিয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে অনেক রাজনীতিকের।

তেহরানে বিক্ষোভ

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া আরও কয়েকটি ভিডিওতে রাজধানী তেহরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভবনের সামনেও বিক্ষোভ দেখা গেছে। তবে এএফপি স্বাধীনভাবে এসব ভিডিওর সত্যতা যাচাই করতে পারেনি। ভিডিওগুলোতে দেখা যায়, বিক্ষোভকারীরা আরাগচি ও ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের পদত্যাগের দাবি জানিয়ে স্লোগান দিচ্ছেন।

রাজনৈতিক বিভাজন

সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে ইরানের ভেতরে রাজনৈতিক বিভাজন ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে। একদিকে সরকার যুদ্ধের অবসান ও অর্থনৈতিক চাপ কমানোর সুযোগ দেখছে, অন্যদিকে কট্টরপন্থীরা মনে করছেন, এতে দেশের কৌশলগত অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।