ইরানের আইআরজিসির মার্কিন ব্যাংকে হামলার দাবি, উত্তেজনা বৃদ্ধি
যুক্তরাষ্ট্রের একটি ব্যাংকের শাখায় হামলার দাবি করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড (আইআরজিসি)। তবে, কোথায় এবং কোন ব্যাংকে হামলা চালানো হয়েছে সেটি স্পষ্ট করা হয়নি। খবরটি প্রথম প্রকাশ করেছে আল-জাজিরা। আইআরজিসির মুখপাত্র সরদার নাইনি বলেন, "উপসাগরীয় রাষ্ট্রে অবস্থিত একটি মার্কিন ব্যাংকের শাখায় হামলা চালানো হয়েছে।" ইরানের দু’টি ব্যাংকে হামলা চালানোর জেরে এটি করা হয়েছে বলে সরদার নাইনি উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে সংবাদ সংস্থা তাসনিম।
হুঁশিয়ারি ও প্রতিক্রিয়া
হুঁশিয়ারি দিয়ে সরদার নাইনি বলেছেন, "যদি শত্রুরা একই কাজ আবার করে তাহলে উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলোতে যত মার্কিন ব্যাংকের শাখা রয়েছে সবগুলোতে হামলা চালানো হবে।" এই হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে, দুবাইয়ের আন্তর্জাতিক আর্থিক কেন্দ্র এলাকায় দু’টি ধারাবাহিক বিস্ফোরণের কারণে মার্কিন আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের শাখাগুলো বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে। কর্মীদের বাসায় বসে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছে প্রতিষ্ঠানগুলো। যার মধ্যে রয়েছে সিটিগ্রুপ এবং স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড। এছাড়া কাতারে অবস্থিত এইচএসবিসির শাখাও বন্ধ করা হয়েছে।
রাজনৈতিক মন্তব্য ও হিজবুল্লাহর হামলা
এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলো অঞ্চলের জন্য ক্ষতিকর বলে দাবি করেছেন ইরানিয়ান পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ। সোশ্যাল প্ল্যাটফর্ম এক্সে (সাবেক টুইটার) এক পোস্টে তিনি লেখেন, "চলমান যুদ্ধ প্রমাণ করেছে যে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিগুলো অঞ্চল বা কোনও দেশকে রক্ষা করে না। এগুলো একটি হুমকি। আমেরিকা ইসরায়েলের জন্য সবাইকে উৎসর্গ করে এবং কেবল তাদের কথাই ভাবে।" আমেরিকার পোশাক পড়ে থাকাদের নগ্ন হিসেবেও আখ্যা দিয়েছেন ইরানের স্পিকার।
অন্যদিকে, ইসরায়েলে ফের রকেট হামলার কথা জানিয়েছে হিজবুল্লাহ। লেবাননের সশস্ত্র সংগঠনটি থেকে বলা হয়, তারা উত্তর ইসরায়েলের গোরেনকে লক্ষ্য করে রকেট ছুঁড়েছে। এই হামলা আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
হরমুজ প্রণালি বিতর্ক ও ট্রাম্পের আহ্বান
ইরান যুদ্ধের পর থেকেই অনেকটা বন্ধ রয়েছে হরমুজ প্রণালি। এ প্রণালিতে বোমা হামলার কথা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের সোশ্যাল প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, "ইরানের হরমুজ প্রণালি বন্ধের জেরে যেসব দেশ ক্ষতিগ্রস্ত তারা সবাই মিলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বয় করে সেখানে যুদ্ধ জাহাজ পাঠাতে পারেন। এতে করে প্রণালিটি উন্মুক্ত ও নিরাপদ থাকবে।"
ট্রাম্প ইরানের সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস করার বিষয়ে আগের দাবিগুলো ফের পুনরাবৃত্তি করেছেন। তবে, তিনি স্বীকার করেছেন, গুরুত্বপূর্ণ এ জলপথে তাদের জন্য এক-দুটি ড্রোন পাঠানো কিংবা একটি মাইন ফেলে দেওয়া বা স্বল্প-পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা খুবই সহজ। পোস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট লেখেন, "আশা করি, চীন, জাপান, ফ্রান্স, দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাজ্যসহ অন্য যেসব দেশ ক্ষতিগ্রস্ত তারা হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ পাঠাবে, যাতে আর কোনও হুমকি হয়ে না থাকে।"
এই ঘটনাগুলো মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের জটিলতা আরও বৃদ্ধি করেছে। মার্কিন ব্যাংকগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
