ইরানের অনুমতিতে হরমুজ প্রণালি দিয়ে ভারতীয় তেলবাহী জাহাজ চলাচল শুরু
হরমুজ প্রণালিতে ভারতীয় জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিল ইরান

ইরানের অনুমতিতে হরমুজ প্রণালি দিয়ে ভারতীয় তেলবাহী জাহাজ চলাচল শুরু

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটের মধ্যে ইরান ভারতীয় পতাকাবাহী তেলবাহী জাহাজগুলোর জন্য হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের আনুষ্ঠানিক অনুমতি প্রদান করেছে। দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের মধ্যে সম্প্রতি আলোচনার পর এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তটি গৃহীত হয়েছে, যা আঞ্চলিক জ্বালানি পরিবহনে একটি ইতিবাচক সংকেত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

জাহাজগুলোর নিরাপদ অতিক্রমণ ও সীমাবদ্ধতা

বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানা গেছে, ভারতের দুটি তেলবাহী জাহাজ 'পুষ্পক' এবং 'পরিমল' ইতিমধ্যেই হরমুজ প্রণালি নিরাপদে অতিক্রম করতে সক্ষম হয়েছে। তবে এই অনুমতি সীমিত পর্যায়ে রয়েছে, কারণ যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ এবং ইসরাইল-সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলো এখনো নানা ধরনের সীমাবদ্ধতা ও বাধার মুখে রয়েছে।

হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন নৌ করিডর হিসেবে পরিচিত, যার মাধ্যমে বিশ্বের তেল সরবরাহের একটি বড় অংশ চলাচল করে। এই প্রণালিতে তেলবাহী জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা বর্তমান পরিস্থিতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের আলোচনা ও বাংলাদেশের নিরাপত্তা

এ নিয়ে গত মঙ্গলবার (১০ মার্চ) ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে টেলিফোনে বিস্তারিত আলোচনা করেন। ইরান সংঘাত শুরু হওয়ার পর এটি ছিল দুই নেতার মধ্যে তৃতীয়বারের মতো সরাসরি যোগাযোগ, যেখানে তারা মধ্যপ্রাচ্যের সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়েও মতবিনিময় করেছেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

এদিকে, বাংলাদেশ সরকারের অনুরোধের প্রেক্ষিতে ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে আশ্বস্ত করেছে যে বাংলাদেশের জন্য তেল ও এলএনজি বহনকারী জাহাজগুলোকে হরমুজ প্রণালিতে বাধা দেওয়া হবে না। জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন যে বাংলাদেশ ইতিমধ্যেই হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল ও এলএনজি বহনকারী জাহাজগুলোর নিরাপদ চলাচলের নিশ্চয়তা চেয়ে ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ স্থাপন করেছে।

আঞ্চলিক সংঘাতের প্রভাব ও বিশ্ব অর্থনীতি

মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান সংঘাত বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন নৌ করিডরটিকে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে ফেলেছে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এই প্রেক্ষিতে ইরানের সিদ্ধান্ত আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার দিকে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই অনুমতি প্রদান শুধুমাত্র ভারতের জন্যই নয়, বরং পুরো দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল-সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলোর উপর চলমান সীমাবদ্ধতা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে রয়েছে।