বিশ্ব অস্থির, পাকিস্তানে দ্বিতীয় দফায় শান্তি আলোচনা শুরু
বিশ্ব অস্থির, পাকিস্তানে দ্বিতীয় দফায় শান্তি আলোচনা

বিশ্ব এখনো অস্থির। আবার বিশ্ববাসীর দৃষ্টি পাকিস্তানের দিকে। সেইখানে দ্বিতীয় দফায় শান্তি আলোচনা শুরু হইয়াছে। কী হইবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার এই আলোচনার ফলাফল? অচলাবস্থা কি কাটিবে? মধ্যপ্রাচ্যে কি শান্তি ফিরিয়া আসিবে? হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনার কারণে বিশ্ববাণিজ্যে যে অস্থিরতা সৃষ্টি হইয়াছে, তাহাতে সবচাইতে ক্ষতিগ্রস্ত হইতেছে বাংলাদেশসহ তৃতীয় বিশ্বের দেশসমূহ। এই সকল দেশে দেখা দিয়াছে জ্বালানি-সংকট ও অর্থনৈতিক বিপর্যয়। একদিকে গ্রীষ্মের তাপপ্রবাহ বাড়িতেছে, অন্যদিকে তাহার সহিত পাল্লা দিয়া গ্রামে-গঞ্জে বাড়িতেছে লোডশেডিং। রাজনীতিও ক্রমে উত্তপ্ত হইয়া উঠিতেছে। বলিতে গেলে সকলখানেই টালমাটাল অবস্থা। কবে নাগাদ এই পরিস্থিতির উত্তরণ ঘটিবে তাহা কেহ জানেন না। ইতিমধ্যে তৈলের মূল্য কয়েক বৎসরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাইয়া গিয়াছে। এই পরিস্থিতি বিশ্বব্যাপী মূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক মন্দার আশঙ্কাকে বাড়াইয়া দিয়াছে। এমনকি মন্দার হাত ধরিয়া আসিতে পারে দুর্ভিক্ষও। তাই এই সময় ধৈর্য ধারণ আর অল্পে সন্তুষ্টির দাওয়াই প্রদান ছাড়া আমাদের আর কি কোনো বিকল্প আছে?

অর্থনীতির ওপর প্রভাব

অর্থনীতিবিদরা বলিতেছেন, খোদ উন্নত দেশসমূহও পরিস্থিতি মোকাবিলায় হিমশিম খাইতেছে। ভোক্তা ও সাধারণ মানুষ এখন স্যান্ডউইচের মতো চিড়াচ্যাপটা হইবার জোগাড়। দেশে দেশে ত্রাহি অবস্থা। গভীরভাবে বিশ্লেষণ করিলে দেখা যায়, ইউক্রেন ও রাশিয়ার যুদ্ধের পর ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের যুদ্ধের চাপ বিশ্ববাসীর পক্ষে সহ্য করা কঠিন হইয়া পড়িয়াছে। অবশ্য যেই সকল দেশ প্রতিনিয়ত ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আশঙ্কায় নির্ঘুম রাত কাটাইতেছে, তাহাদের তুলনায় আমরা ভালো আছি। তবে আমরা আর কত দিন এই অবস্থায় থাকিব তাহার কোনো নিশ্চয়তা নাই। তাই এই মুহূর্তে ধৈর্যধারণ করিতে পারিলে আমরা আরও কিছুটা ভালো থাকিব নিঃসন্দেহে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ধৈর্যের শিক্ষা

এই ঘটনাটি আমাদের অজানা নহে-এক পা-হারা ব্যক্তি তাহার দুর্গতির জন্য সৃষ্টিকর্তাকে দোষারোপ করিতেছিল; কিন্তু যখন সেই রাস্তায় বাহির হইয়া দেখিল একজনের দুই পা-ই নাই, তখন সে নিজেকে প্রবোধ দিল এই বলিয়া যে, সে অন্তত তাহার তুলনায় ভালো রহিয়াছে। আমাদের এখন সেই ব্যক্তির ন্যায় ধৈর্যশীল হইতে হইবে। পরাশক্তিগুলি পৃথিবীকে লইয়া নিত্যদিন ছিনিমিনি খেলিতেছে। পৃথিবীবাসীকে তাহারা করিয়া ফেলিয়াছে জিম্মি। এই জিম্মিদশার অবসান না হওয়া পর্যন্ত আমাদের ধৈর্যধারণের কোনো বিকল্প আছে বলিয়া মনে হয় না। ব্যয়সংকোচন নীতি অবলম্বনের পাশাপাশি এই দুঃখকষ্টের মধ্যেই একধরনের আত্মতুষ্টি লাভ করিতে হইবে এবং সৃষ্টিকর্তার প্রতি সন্তুষ্ট ও কৃতজ্ঞ থাকিতে হইবে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ইসলামের দৃষ্টিতে ধৈর্য

এই জন্য ইসলাম ধর্মের মর্মবাণী হইল-ইন্নাল্লাহা মায়াস সবিরিন। অর্থাৎ নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সহিতই থাকেন। পবিত্র কুরআনের ৯০টিরও অধিক স্থানে ধৈর্যের কথা উল্লেখ করা হইয়াছে। শুধু তাহাই নহে, আল্লাহ-তায়ালা বলেন, 'হে মুমিনরা! তোমরা ধৈর্যধারণ করো, ধৈর্যধারণে পরস্পর প্রতিযোগিতা করো এবং ধৈর্য সহকারে পরস্পরকে শক্তিশালী করো। আর আল্লাহকে ভয় করো যাহাতে তোমরা সফলকাম হইতে পার।' (সুরা আলে ইমরান ২০০)। তাহার মানে শুধু নিজে ধৈর্যধারণ করিলে চলিবে না, ধৈর্যধারণের ক্ষেত্রে অন্যের সহিত প্রতিযোগিতা করিতে হইবে। ধৈর্যধারণ না করিলে পৃথিবীর বিদ্যমান পরিস্থিতিতে আমাদের হতাশাগ্রস্ত, অস্থির ও উন্মাদ হওয়া ছাড়া কোনো উপায় থাকিবে না।

শৃঙ্খলার গুরুত্ব

উল্লেখ্য, ধৈর্যধারণের পাশাপাশি আমরা ডিসিপ্লিন বা শৃঙ্খলাও মানিয়া চলিব। জ্বালানি তৈলের সংকটকে কেন্দ্র করিয়া যেইভাবে মজুতদারি বাড়িতেছে এবং ফিলিং স্টেশনগুলিতে বাড়িতেছে নানামুখী বিশৃঙ্খলা, তাহা কাহারও কাম্য নহে। পৃথিবীর কোনো উন্নত দেশই শৃঙ্খলার শিক্ষা অর্জন ছাড়া উন্নত দেশের তকমা লাভ করে নাই। তবে এই কথাও সত্য যে, মানুষের দৈনন্দিন দুর্ভোগ দূর করিতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টাও অব্যাহত রাখিতে হইবে। এই জন্য জনপ্রশাসনের ভূমিকা সর্বাধিক। কথায় বলে, সবুরে মেওয়া ফলে। সত্যিই ধৈর্যের ফল শেষ পর্যন্ত সুমিষ্টই হইয়া থাকে। মোটকথা, পৃথিবীতে সমস্যা-সংকট ও বাধাবিপত্তি থাকিবেই। মানুষ শৃঙ্খলা, ধৈর্য ও সহনশীলতার শক্তিতে তাহা হইতে মুক্তি পাইতে পারে।