দুই মাস পর আকাশসীমা খুলল কুয়েত
দুই মাস পর আকাশসীমা খুলল কুয়েত

ইরান, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের মধ্যে বিধ্বংসী যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর নিরাপত্তার স্বার্থে নিজেদের আকাশসীমা সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিয়েছিল কুয়েত। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) দীর্ঘ দুই মাস পর মধ্যপ্রাচ্যের এই তেলসমৃদ্ধ দেশটি পুনরায় তাদের আকাশসীমা উন্মুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছে। কুয়েতের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদ সংস্থা ‘কুনা’-র বরাত দিয়ে তুরস্কের আনাদোলু এজেন্সি এই খবরটি নিশ্চিত করেছে।

আকাশসীমা খোলার কারণ

কুয়েতের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের মহাপরিচালক হামৌদ মুবারক জানিয়েছেন, আঞ্চলিক অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে যে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল, তা আজ থেকে তুলে নেওয়া হলো। এটি বিমানবন্দরকে পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রমে ফিরিয়ে নেওয়ার প্রথম সুচিন্তিত পদক্ষেপ বলে তিনি উল্লেখ করেন। মূলত ইরানের পরমাণু প্রকল্প এবং ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে তেহরানের দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্বের রেশ ধরে এই যুদ্ধের সূত্রপাত হয়। গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে ২১ দিনব্যাপী দীর্ঘ সংলাপ চললেও কোনো সমঝোতা চুক্তি ছাড়াই তা শেষ হয়।

যুদ্ধের সূচনা ও প্রভাব

এর পরদিনই ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করে এবং একই সময়ে ইসরায়েলও ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ নামে সামরিক অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের প্রথম দিনই ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা নিহত হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে এক ভয়াবহ সংঘাতময় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ইরানও এই হামলার পাল্টা জবাব দিতে শুরু থেকেই ইসরায়েলসহ সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ওমানে অবস্থিত মার্কিন সেনাঘাঁটি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। এই সংঘাত চলাকালীন কুয়েত বিমানবন্দরেও কয়েকবার ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন আঘাত হেনেছিল।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ক্ষয়ক্ষতি ও পুনরুদ্ধার

হামৌদ মুবারক কুনা নিউজ এজেন্সিকে জানিয়েছেন, ওই হামলায় বিমানবন্দরের বেশ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, যা ইতিমধ্যে কর্তৃপক্ষ যাচাই এবং নথিবদ্ধ করার কাজ সম্পন্ন করেছে। গত ৮ এপ্রিল থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পর পরিস্থিতির উন্নতি দেখে আকাশসীমা খুলে দেওয়ার এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো। দীর্ঘদিন আকাশসীমা ও বিমানবন্দর বন্ধ থাকাকালীন কুয়েতের বিমানগুলোকে নিজস্ব বিমানবন্দরে রাখার অনুমতি ও সহযোগিতা দিয়েছিল সৌদি আরব। কুয়েতি মহাপরিচালক এই দুঃসময়ে সহযোগিতার জন্য রিয়াদের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

বর্তমানে কুয়েত বিমানবন্দর তাদের কার্যক্রম পুনরায় শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং খুব শিগগিরই আন্তর্জাতিক ফ্লাইটগুলো নিয়মিত সূচি অনুযায়ী চলাচল করবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই পদক্ষেপটি মধ্যপ্রাচ্যের বিমান চলাচল ও বাণিজ্যিক কার্যক্রমের স্থবিরতা কাটিয়ে উঠতে সহায়ক হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি