ইরানি বিশেষজ্ঞের সতর্কবার্তা: পশ্চিম এশিয়া ও হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি স্থায়ীভাবে পরিবর্তিত
পশ্চিম এশিয়া এবং হরমুজ প্রণালির বর্তমান পরিস্থিতি আর কখনোই আগের অবস্থায় ফিরে যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন একজন ইরানি পররাষ্ট্রনীতি বিশেষজ্ঞ। তার এই বক্তব্য যুক্তরাষ্ট্রকে আরও ক্ষুব্ধ করে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া এই খবরটি প্রথমবারের মতো প্রকাশ করেছে, যা আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনার সৃষ্টি করেছে।
ইরানের দৃঢ় অবস্থান ও মার্কিন-ইসরায়েলি আগ্রাসনের ব্যর্থতা
তেহরানভিত্তিক বিশেষজ্ঞ আব্বাস আসলানি সম্প্রতি সিনহুয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট ভাষায় বলেন, কয়েক সপ্তাহ ধরে চলমান সংঘাত এবং ইরানের ওপর মার্কিন-ইসরায়েলি আগ্রাসন সত্ত্বেও তেহরান কোনো দুর্বলতা বা আত্মসমর্পণের লক্ষণ দেখাচ্ছে না। বরং ইরান এখন তার কৌশলগত লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে, যার মধ্যে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া একটি প্রধান উদ্দেশ্য হিসেবে কাজ করছে।
আসলানি আরও উল্লেখ করেন যে, ইরানের জ্বালানি খাত, বিজ্ঞান গবেষণা কেন্দ্র, চিকিৎসা সুবিধা এবং শিল্প অবকাঠামোতে সাম্প্রতিক হামলাগুলো প্রমাণ করে যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল তাদের সামরিক ও কৌশলগত লক্ষ্য অর্জনে সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ হয়েছে। তিনি এই হামলাগুলোকে যুদ্ধাপরাধ এবং আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেন, বিশেষ করে বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মতো শান্তিপূর্ণ স্থাপনায় আক্রমণকে বড় ধরনের আঞ্চলিক বিপর্যয়ের পূর্বাভাস হিসেবে বর্ণনা করেন।
ইরানের রাজনৈতিক ও সামরিক সক্ষমতা অটুট রয়েছে
বিশেষজ্ঞ আসলানির মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের রাজনৈতিক কাঠামো পরিবর্তন এবং সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস করার উদ্দেশ্য নিয়ে এই হামলা চালিয়েছিল। কিন্তু ইরান বেশ দক্ষতার সাথে এবং শক্তিশালীভাবে পাল্টা জবাব দিতে সক্ষম হয়েছে, যা তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কার্যকারিতা প্রমাণ করে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে ভেনেজুয়েলার মডেলে বিবেচনা করে ভুল হিসাব করেছিল, কিন্তু বাস্তবে তারা সম্পূর্ণ ভিন্ন ও জটিল পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছে।
এই ঘটনাগুলোর মাধ্যমে স্পষ্ট হয়ে গেছে যে ইরানের রাজনৈতিক ব্যবস্থায় কোনো ধরনের পরিবর্তন আসেনি এবং দেশটির সামরিক শক্তি ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা এখনও অটুট রয়েছে। আসলানি জোর দিয়ে বলেন, এই সংঘাতের পরিণতি হিসেবে পশ্চিম এশিয়া অঞ্চলের ভূ-রাজনৈতিক গতিশীলতা স্থায়ীভাবে পরিবর্তিত হয়ে গেছে, যা ভবিষ্যতের আন্তর্জাতিক সম্পর্ককে প্রভাবিত করবে।
সাম্প্রতিক হামলা ও ইরানের পাল্টা আক্রমণের বিবরণ
প্রসঙ্গত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল তেহরানসহ ইরানের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শহরে যৌথ হামলা চালায়। এই হামলায় ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি সহ শীর্ষ সামরিক কমান্ডার এবং বহু বেসামরিক নাগরিক নিহত হন, যা একটি বড় ধরনের মানবিক ট্র্যাজেডি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
ইরান এই হামলার জবাবে দ্রুত ও কার্যকরীভাবে পাল্টা পদক্ষেপ নেয়, যার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত ছিল:
- ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি ও কৌশলগত সম্পদের ওপর ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা।
- কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ উপসাগরীয় অঞ্চলের বেসামরিক অবকাঠামো এবং জ্বালানি সুবিধাগুলো লক্ষ্য করে সুনির্দিষ্ট আক্রমণ।
এই পাল্টা হামলাগুলো ইরানের প্রতিশোধমূলক ক্ষমতা এবং আঞ্চলিক প্রভাব বজায় রাখার সক্ষমতা প্রদর্শন করেছে, যা আসলানির দাবিকে আরও শক্তিশালী করে তুলেছে যে এই অঞ্চলের পরিস্থিতি আর আগের মতো সরল বা পূর্বাভাসযোগ্য হবে না।



