সাম্প্রতিক যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া ১৮টি ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটির মোট ৬৯টি সুড়ঙ্গ প্রবেশপথের মধ্যে ৫০টিই আবার সচল করেছে ইরান। স্যাটেলাইট বা কৃত্রিম উপগ্রহ থেকে প্রাপ্ত ছবির বরাত দিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন এ খবর জানিয়েছে।
দ্রুত পুনরুদ্ধার কাজ
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘মাটিচাপা পড়া ক্ষেপণাস্ত্রের ভাণ্ডার দ্রুত খনন করে বের করার পর ইরান এখন ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশ লক্ষ্য করে আরও অনেক বেশি দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত।’ সিএনএন-এর সঙ্গে আলাপকালে বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, এই স্যাটেলাইট ছবিগুলো মূলত ইরান ও মার্কিন যৌথ বোমাবর্ষণ অভিযানের সীমাবদ্ধতাকেই ফুটিয়ে তুলেছে। কারণ ইরান বুলডোজার এবং ডাম্প ট্রাক ব্যবহার করেই এই ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিগুলোর প্রবেশপথ পুনরায় উন্মুক্ত করে ফেলেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতামত
জেমস মার্টিন সেন্টার ফর ননপ্রলিফারেশন স্টাডিজের রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট স্যাম লেয়ার সিএনএন-কে বলেন, ‘ইরান এখন ততক্ষণ পর্যন্ত ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ অব্যাহত রাখতে পারবে, যতক্ষণ পর্যন্ত তাদের কাছে লঞ্চার এবং ক্রু থাকবে, এমনকি ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন বন্ধ থাকলেও।’ তিনি আরও বলেন, ‘ইরানিদের কাছে এখনও ক্ষেপণাস্ত্রের যে বিপুল মজুত রয়েছে, তা দিয়ে এই লঞ্চারগুলোকে সজ্জিত বা সশস্ত্র করার ক্ষেত্রে কোনও বাধাই আর অবশিষ্ট নেই।’
বিশেষজ্ঞরা আরও উল্লেখ করেন যে, ইরানের এই পুনরুদ্ধার ক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। দ্রুত মেরামত ও পুনরায় সক্রিয়করণের মাধ্যমে ইরান তার ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে, যা আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।



