ফ্লোরিডার বিমানবন্দরের নাম পরিবর্তন করে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নামে রাখার সিদ্ধান্ত
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের একটি বিমানবন্দরের নাম পরিবর্তন করে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নামে রাখার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। বৃহস্পতিবার অঙ্গরাজ্যটির আইনসভায় এ সংক্রান্ত একটি বিল আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদিত হয়েছে, যা ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি নিশ্চিত করেছে। এই পদক্ষেপটি ট্রাম্পের রাজনৈতিক উত্তরাধিকারকে স্মরণীয় করে তুলতে একটি উল্লেখযোগ্য প্রচেষ্টা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
আইনসভায় বিল অনুমোদন ও গভর্নরের ভূমিকা
ফ্লোরিডার রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত আইনসভা পাম বিচ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নাম পরিবর্তন করে 'প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড জে. ট্রাম্প আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর' করার প্রস্তাবটি সফলভাবে পাস করেছে। এই বিমানবন্দরটি বালুকাময় সমুদ্রসৈকত ও বিলাসবহুল প্রাসাদের জন্য বিখ্যাত পাম বিচ শহরে অবস্থিত, যা ট্রাম্পের মার-এ-লাগো বাসভবন থেকে মাত্র কয়েক মিনিটের দূরত্বে রয়েছে। ট্রাম্পের এক সময়ের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী ও ফ্লোরিডার বর্তমান গভর্নর রন ডিস্যান্টিস এই বিলে সই করবেন বলে আশা করা হচ্ছে, যা প্রক্রিয়াটিকে চূড়ান্ত রূপ দেবে।
ট্রাম্পের নামকরণের ইতিহাস ও বর্তমান প্রচেষ্টা
রিয়েল এস্টেট মোগল হিসেবে পরিচিত ডোনাল্ড ট্রাম্প বিশ্বের বিভিন্ন ভবনে নিজের নাম ফুটিয়ে তুলেছেন এবং বর্তমানে তিনি দেশজুড়ে নজিরবিহীন প্রচার ও নির্মাণ অভিযানের মাধ্যমে নিজের ছাপ রেখে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। তবে, বিমানবন্দরটির নাম পরিবর্তনের জন্য ফেডারেল অ্যাভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের অনুমোদনের প্রয়োজন হবে, যা একটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক হিসেবে কাজ করতে পারে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের নামে কোনও প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তনের ঘটনা এটিই প্রথম নয়; গত ডিসেম্বরে ওয়াশিংটনের কেনেডি সেন্টারের বোর্ড এই কেন্দ্রের নাম পরিবর্তন করে 'ট্রাম্প-কেনেডি সেন্টার' করার পক্ষে ভোট দিয়েছিল।
পূর্ববর্তী প্রচেষ্টা ও অন্যান্য উন্নয়ন
মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প এর আগে নিউ ইয়র্কের পেন স্টেশন এবং ওয়াশিংটনের ডালস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নামও নিজের নামে করার চেষ্টা করেছিলেন, যদিও সেই প্রচেষ্টাগুলো সফল হয়নি। এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট নিশ্চিত করেছে যে ট্রাম্পের ছবি সংবলিত ১ ডলারের একটি স্মারক মুদ্রার খসড়া তৈরি করা হয়েছে। আইন অনুযায়ী, বর্তমান বা জীবিত কোনও প্রেসিডেন্টের ছবি মুদ্রায় প্রদর্শনের ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, যা এই উদ্যোগটিকে একটি বিতর্কিত বিষয়ে পরিণত করেছে। এই সমস্ত ঘটনা ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা ও রাজনৈতিক প্রভাবের একটি জটিল চিত্র উপস্থাপন করছে।
