বিশ্বের বৃহত্তম বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড ৩০০ দিনের বেশি সময়ের রেকর্ড মিশন শেষে দেশে ফিরছে। ইরান যুদ্ধ এবং ভেনেজুয়েলার নেতা নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেফতারের মতো গুরুত্বপূর্ণ সামরিক মিশনে অংশ নেওয়ার পর রণতরীটি এখন মধ্যপ্রাচ্য ছেড়ে নিজ বন্দরে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছে। মার্কিন বার্তা সংস্থা এপি এ খবর জানিয়েছে।
দীর্ঘ মিশনের বিবরণ
নাম প্রকাশ না করার শর্তে যুক্তরাষ্ট্রের দুই কর্মকর্তা জানিয়েছেন, রণতরীটি আগামী কয়েক দিনের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্য ত্যাগ করবে এবং মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে ভার্জিনিয়ায় নিজ বন্দরে পৌঁছাবে। জুনে নেভাল স্টেশন নরফোক ত্যাগের পর প্রায় ১০ মাসের সামরিক মিশনে থাকা এই বিমানবাহী রণতরী যুক্তরাষ্ট্রের ভিয়েতনাম যুদ্ধ-পরবর্তী দীর্ঘতম রণতরী মিশনের রেকর্ড গড়েছে। জাহাজটির ২৯৫ দিন সমুদ্রে অবস্থান গত ৫০ বছরের মধ্যে আগের রেকর্ডকে ছাড়িয়ে যায়।
চ্যালেঞ্জ ও প্রশ্ন
দীর্ঘ এই মোতায়েন নিয়ে নৌসদস্যদের ওপর প্রভাব এবং জাহাজের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ইতোমধ্যে জাহাজটিতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে, যার ফলে দীর্ঘ সময় মেরামতের প্রয়োজন হয় এবং অনেক নাবিকের থাকার ব্যবস্থা ব্যাহত হয়। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ কংগ্রেসে এক শুনানিতে বলেন, বিভিন্ন সময়ে দক্ষিণ ও মধ্যাঞ্চলীয় কমান্ডের চাহিদা অনুযায়ী অতিরিক্ত সামরিক সম্পদ সরবরাহের প্রয়োজন হওয়ায় কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়ে মোতায়েনের সময় বাড়ানো হয়।
মোতায়েনের পথ
মোতায়েনের শুরুতে ইউএসএস ফোর্ড ভূমধ্যসাগরে যায়। পরে ক্যারিবীয় অঞ্চলে পাঠানো হয় এবং ভেনেজুয়েলায় অভিযানে অংশ নেয়। এরপর ইরানকে ঘিরে উত্তেজনা বাড়লে আবার মধ্যপ্রাচ্যের দিকে অগ্রসর হয়। ইরান যুদ্ধের শুরুর দিকে ভূমধ্যসাগর থেকে অভিযানে অংশ নেওয়ার পর সুয়েজ খাল অতিক্রম করে মার্চের শুরুতে লোহিত সাগরে প্রবেশ করে জাহাজটি। তবে একটি লন্ড্রি কক্ষে আগুন লাগার ঘটনায় সেটিকে পুনরায় ভূমধ্যসাগরে ফিরে গিয়ে মেরামত করতে হয়।
যদিও এই মোতায়েন ভিয়েতনাম যুদ্ধকালীন ইউএসএস মিডওয়ের ৩৩২ দিনের রেকর্ড ছাড়াতে পারেনি, তবুও সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে এটি অন্যতম দীর্ঘ মিশন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। গত সপ্তাহে ইউএসএস জর্জ এইচ.ডব্লিউ. বুশ ভূমধ্যসাগরে পৌঁছানোর পর মধ্যপ্রাচ্যে একসঙ্গে তিনটি মার্কিন বিমানবাহী রণতরী মোতায়েন ছিল, যা ২০০৩ সালের পর প্রথম। ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনও জানুয়ারি থেকে সেখানে অবস্থান করছে।



