ইরানে মার্কিন যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত: ট্রাম্পের উত্তেজনা ও গোপন উদ্ধার অভিযান
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, চলতি মাসের শুরুতে ইরানে একটি মার্কিন এফ–১৫ যুদ্ধবিমান গুলি করে ভূপাতিত হওয়ার পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রচণ্ড উত্তেজিত হয়ে পড়েছিলেন। বিমানের দুজন ক্রু নিখোঁজ হওয়ার খবর শুনে তিনি কয়েক ঘণ্টা ধরে সহযোগীদের সঙ্গে চিৎকার–চেঁচামেচি করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সিচুয়েশন রুম থেকে ট্রাম্পকে দূরে রাখার সিদ্ধান্ত
পরিস্থিতি শান্ত রাখতে উদ্ধারকাজ চলার সময় সহযোগীরা ট্রাম্পকে সিচুয়েশন রুম বা পর্যবেক্ষণ কক্ষ থেকে দূরে রেখেছিলেন। তবে তাঁরা সেখান থেকে প্রতি মুহূর্তের হালনাগাদ তথ্য নিচ্ছিলেন এবং ট্রাম্পকে তা জানাচ্ছিলেন। ট্রাম্প প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, সহযোগীরা প্রেসিডেন্টকে সেই কক্ষের বাইরে রেখেছিলেন কারণ তাঁরা আশঙ্কা করছিলেন যে ট্রাম্পের অধৈর্য আচরণের কারণে অভিযান পরিচালনায় ব্যাঘাত ঘটতে পারে।
উদ্ধার অভিযানের বিবরণ
৩ এপ্রিল ইরানের আকাশসীমায় মার্কিন যুদ্ধবিমানটি গুলি করে ভূপাতিত করা হয়। এতে দুজন ক্রু নিখোঁজ হন এবং যুক্তরাষ্ট্র অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ একটি উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে। প্রথম ক্রু দ্রুত উদ্ধার হলেও অন্যজনের সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না। ওই ব্যক্তি শত্রুপক্ষের নিয়ন্ত্রিত এলাকায় ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় লুকিয়ে ছিলেন। পরে ৪ এপ্রিল সন্ধ্যায় তাঁকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়।
ট্রাম্প প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর সহায়তায় এই উদ্ধার অভিযান সম্ভব হয়েছে। সিআইএ পেন্টাগন ও হোয়াইট হাউসকে ক্রুদের অবস্থান সম্পর্কে জানিয়েছে। কর্মকর্তা এটিকে খড়ের গাদায় সুই খোঁজার মতো কাজ বলে বর্ণনা করেন, যেখানে সিআইএর বিশেষ প্রযুক্তি ছাড়া ক্রুকে খুঁজে পাওয়া অসম্ভব ছিল।
ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়া ও পরবর্তী ঘটনা
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের খবর অনুসারে, ট্রাম্প মধ্যরাতের দিকে ট্রুথ সোশ্যালে অভিযানের সাফল্যের কথা প্রচার করেন এবং রাত দুইটায় ঘুমাতে যান। তিনি লিখেছিলেন, এই সাহসী যোদ্ধা ইরানের দুর্গম পাহাড়ের শত্রুসীমানায় ছিলেন। শত্রুরা তাঁকে হন্যে হয়ে খুঁজছিল ও প্রতি ঘণ্টায় তারা তাঁর আরও কাছে চলে আসছিল।
পরদিন সকালে ট্রাম্প ইরানকে গালাগালি করে একটি পোস্ট দেন এবং হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দ্রুত হরমুজ প্রণালি খুলে না দিলে তাদের অবস্থা ভয়াবহ হবে। ৭ এপ্রিল তিনি আরও হুমকি দিয়ে বলেন, ইরান যদি হরমুজ প্রণালি খুলতে রাজি না হয়, তবে ওই রাতে একটি আস্ত সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যাবে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্পের এই মন্তব্যগুলো বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ তৈরি করেছিল এবং অনেক আইনপ্রণেতা প্রেসিডেন্টের মানসিক অবস্থা সম্পর্কে জানতে হোয়াইট হাউসের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন।
উদ্ধারকালীন কৌশল
উদ্ধার অভিযান চলার সময় ইরানি বাহিনীকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টায় সিআইএ একটি প্রচারণা চালিয়েছিল। তারা ভুয়া তথ্য ছড়িয়ে দিয়েছিল যে নিখোঁজ ক্রুকে খুঁজে পাওয়া গেছে এবং উদ্ধার করা হয়েছে। এই কৌশলটি অভিযানের সাফল্যে সহায়ক ভূমিকা পালন করে বলে ধারণা করা হয়।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ট্রাম্পের মনে হয়তো ১৯৭৯ সালে ইরানে মার্কিন নাগরিকদের জিম্মি করার ঘটনাটি বারবার উঁকি দিচ্ছিল, যা তাঁর উত্তেজনা বাড়িয়ে দিয়েছিল। ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফ সুসি ওয়াইলসসহ ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তারা অভিযানের হালনাগাদ তথ্য নিতে সিচুয়েশন রুমে যুক্ত ছিলেন, কিন্তু ট্রাম্প সেখানে উপস্থিত ছিলেন না।



