যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার নেপথ্যে কট্টরপন্থি জেনারেল ভাহিদি
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার নেপথ্যে কে এই জেনারেল ভাহিদি?

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতির লক্ষ্যে চলমান আলোচনা এখন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। কবে নিষ্পত্তি বসবে, তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ইরানের আলোচনার কৌশল নির্ধারণে এক কট্টরপন্থি জেনারেলের নাম প্রকাশ্যে এসেছে। বিশ্লেষকদের মতে, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ ভাহিদি ইরানের আলোচনার কৌশল নিয়ন্ত্রণ করছেন।

কে এই জেনারেল ভাহিদি?

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ ভাহিদি বর্তমানে ইরানের আধা-সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) নেতৃত্বে আছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ করার সম্ভাব্য আলোচনায় ইরানের কঠোর অবস্থান নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। ধারণা করা হচ্ছে, ইরানের যে দলটি নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা আলী খামেনির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যোগাযোগ রাখে, তিনি সে দলের অংশ।

ইরানের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার পরিবর্তন

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর ইরানের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার ভারসাম্য দ্রুত বদলাচ্ছে। কে আসলে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, তা স্পষ্ট নয়। বিভিন্ন গোষ্ঠী প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে, ফলে কারও অবস্থান দ্রুত শক্তিশালী আবার কারও দুর্বল হয়ে যাচ্ছে। ভাহিদিকে গত ৮ ফেব্রুয়ারির পর থেকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। সম্প্রতি ইরানের গণমাধ্যমে তার পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক নিয়েও পরস্পরবিরোধী তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। ওই বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার বার্তাও আদান-প্রদান হয়েছে বলে জানা গেছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ভাহিদির অতীত ও বর্তমান ভূমিকা

দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতাসীন ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে থাকা ভাহিদি ইরানের বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীকে সমর্থন জোগাতে ভূমিকা রেখেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তিনি ১৯৯৪ সালে আর্জেন্টিনার একটি ইহুদি কেন্দ্র বোমা হামলা এবং ২০২২ সালের সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে কঠোর দমন-পীড়নের সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলেও অভিযোগ আছে। বিশ্লেষকদের মতে, ভাহিদি ও তার ঘনিষ্ঠরা এখন শুধু সামরিক নয়, বরং ইরানের আলোচনার কৌশলও নিয়ন্ত্রণ করছে।

ইরানের কৌশল ও অবস্থান

ইরানের কৌশল হিসেবে তারা হরমুজ প্রণালিতে চাপ বজায় রাখা এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলার অভিযোগও রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় তারা ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হস্তান্তরের দাবি মানতে রাজি নয়। তাদের বিশ্বাস, দীর্ঘ সময় ধরে এই অবস্থান ধরে রাখতে পারলে যুক্তরাষ্ট্র নিজেই যুদ্ধ আরও দীর্ঘায়িত করতে চাইবে না।

বিশ্লেষকদের মতে, ভাহিদির অবস্থান ইরানের নীতি আরও কঠোর ও সংঘাতমুখী করছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ইরানের সঙ্গে একটি একক সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী খুঁজে পাওয়া আরও কঠিন হয়ে পড়েছে। তথ্যসূত্র: এনডিটিভি।