যুক্তরাজ্যের সশস্ত্র বাহিনী আজ রোববার ইংলিশ চ্যানেল থেকে নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা রাশিয়ার ‘শ্যাডো ফ্লিট’–এর একটি তেলবাহী ট্যাংকার আটক করেছে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
অভিযানের বিবরণ
যুক্তরাজ্যের রয়্যাল মেরিন কমান্ডো এবং ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সির কর্মকর্তারা ছয় ঘণ্টাব্যাপী অভিযান চালিয়ে তেলের ট্যাংকারটি আটক করেন। ‘স্মির্টোস’ নামের ট্যাংকারটি ক্যামেরুনের পতাকাবাহী ছিল। যুক্তরাজ্যের নেতৃত্বে এ প্রথম রুশ তেলবাহী জাহাজের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান চালানো হলো।
স্থানীয় সময় আজ ভোররাতে অভিযানটি শুরু হয়। এর আগে আটলান্টিকে এ ধরনের একটি অভিযান পরিচালনার সময় যুক্তরাজ্য ফরাসি সেনাবাহিনীকে সহায়তা দিয়েছিল।
জাহাজের বর্তমান অবস্থান
ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট মেরিন ট্রাফিকের তথ্য অনুযায়ী, জাহাজটি বর্তমানে ডরসেট উপকূলে সমুদ্রতীরবর্তী শহর ওয়েমাউথের কাছে নোঙর করে রাখা আছে।
ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অভিযানে ট্যাংকারটিতে পরিবেশগত বা নিরাপত্তা-সংক্রান্ত কোনো উদ্বেগ তৈরি হয়েছে কি না, তা আগে পর্যবেক্ষণ করা হবে।
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য
এক্সে এক পোস্টে প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেছেন, তিনি সশস্ত্র বাহিনীকে তেলবাহী ট্যাংকারটি ইংলিশ চ্যানেলে প্রবেশের চেষ্টা করার সময় আটক করার নির্দেশ দিয়েছেন।
এখানে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ফাঁকি দিয়ে গোপনে রাশিয়ার তেল বিশ্ববাজারে পরিবহন করতে ব্যবহৃত তৃতীয় দেশের পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজবহরকে ‘শ্যাডো ফ্লিট’ বা ছায়া জাহাজবহর বলা হচ্ছে।
শ্যাডো ফ্লিটের প্রভাব
ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ বলেছে, ‘স্মির্টোস’–এর মতো সাত শর বেশি তেলের ট্যাংকার রয়েছে, যেগুলো রাশিয়ার তেল বহন করে। এ ‘শ্যাডো ফ্লিটে’ রাশিয়ার নিষিদ্ধঘোষিত তেলের প্রায় ৭৫ শতাংশ পরিবাহিত হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, এমন জাহাজবহর রাশিয়ার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ‘শ্যাডো ফ্লিট’ রাশিয়াকে তেল বিক্রির সুযোগ করে দিচ্ছে এবং ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে অর্থ সংগ্রহে সহায়তা করছে।
যুক্তরাজ্যের সরকারি যোগাযোগ সদর দপ্তরের (জিসিএইচকিউ) প্রধান বলেন, রাশিয়া যুক্তরাজ্যের অবকাঠামো ও গণতন্ত্রকে লক্ষ্যবস্তু করছে।
প্রধানমন্ত্রীর আরও বক্তব্য
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেছেন, ‘এ সফল অভিযান রাশিয়ার জন্য আরেকটি বড় ধাক্কা। যারা ইউক্রেনে পুতিনের যুদ্ধকে অর্থায়ন করছে, তাদের মনে করিয়ে দেওয়া যে আমরা তাদের লুকিয়ে থাকতে দেব না।’
প্রধানমন্ত্রী আরও লেখেন, ‘আমি এ অভিযানে অংশ নেওয়া সবাইকে ধন্যবাদ জানাতে চাই, বিশেষ করে আমাদের সশস্ত্র বাহিনী এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তাদের, যাঁরা বছরের ৩৬৫ দিন, ২৪ ঘণ্টা এই দেশকে নিরাপদ রাখেন।’
সামরিক সহায়তা
ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মেরিটাইম এয়ার গ্রুপের উড়োজাহাজগুলো এ সামরিক অভিযানে সহায়তা করেছে। এ ছাড়া রয়্যাল এয়ারফোর্সের একটি পি–৮ উড়োজাহাজ এবং যুদ্ধজাহাজ এইচএমএস সাদারল্যান্ড ও এইচএমএস লেডব্রি অভিযানে অংশ নিয়েছে।
নিষেধাজ্ঞার প্রভাব
যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, ‘শ্যাডো ফ্লিট’ মোকাবিলায় যুক্তরাজ্য অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে এবং এরই মধ্যে ৫০০টির বেশি জাহাজের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। এর প্রভাবে আগের বছরের তুলনায় ২০২৫ সালে তেল ও গ্যাস থেকে রাশিয়ার আয় ২৪ শতাংশ কমেছে।
গত মার্চে স্টারমার ঘোষণা করেছিলেন, ‘ব্রিটিশ সশস্ত্র বাহিনী এখন আমাদের জলসীমা দিয়ে অতিক্রম করা নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত জাহাজগুলোতে উঠে তল্লাশি চালাতে সক্ষম।’



