ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের কূটনৈতিক উদ্যোগ চললেও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন যুদ্ধ থামানোর কোনো ইঙ্গিত দিচ্ছেন না। বরং যুদ্ধ আরও তীব্র হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশ্লেষকরা। একই সঙ্গে ন্যাটোর সঙ্গে রাশিয়ার সরাসরি সংঘাতের ঝুঁকিও বাড়ছে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
ক্রেমলিনের কঠোর অবস্থান
ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ যুক্তরাষ্ট্রকে উদ্দেশ করে বলেছেন, সামরিক চাপ প্রয়োগ করে রাশিয়াকে কোনো শান্তি চুক্তিতে বাধ্য করা যাবে না। তার দাবি, ইউক্রেনের হামলার জবাবে রুশ বাহিনী আরও এলাকা দখল করে নিরাপত্তাবলয় গড়ে তুলবে।
সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, পুতিন ন্যাটোভুক্ত বাল্টিক রাষ্ট্র বা রোমানিয়ার কোনো সামরিক স্থাপনায় সীমিত হামলার মাধ্যমে পশ্চিমা জোটে বিভেদ সৃষ্টির চেষ্টা করতে পারেন। এমন কোনো পদক্ষেপ নিলে ন্যাটো ও রাশিয়ার মধ্যে সরাসরি সংঘর্ষের ঝুঁকি আরও বেড়ে যাবে।
ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতি
চার বছরের বেশি সময় ধরে চলা এই যুদ্ধে এখন পর্যন্ত প্রায় ২০ লাখ সেনা হতাহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১৪ লাখ রুশ সেনা হতাহত হয়েছেন বলে দাবি করা হচ্ছে। এত বড় ক্ষয়ক্ষতির পরও ডনবাস অঞ্চল পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে নেওয়াকে পুতিন মর্যাদার প্রশ্ন হিসেবে দেখছেন।
এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতির উদ্যোগেও এখন পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখা যায়নি। ক্রেমলিন-ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলোর দাবি, পুতিন বরং যুদ্ধ আরও জোরদারের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
জ্বালানি স্থাপনায় হামলায় কঠোরতা
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রাশিয়ার কয়েকটি তেল শোধনাগার ও বন্দর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর পুতিনের অবস্থান আরও কঠোর হয়েছে। তিনি স্পষ্ট করেছেন, জ্বালানি স্থাপনায় হামলা চালিয়ে রাশিয়াকে নতি স্বীকার করানো যাবে না এবং ইউক্রেনকে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।
অন্যদিকে, ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা জোরদারে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরির লাইসেন্স দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ট্রাম্প। ন্যাটোর শীর্ষ সম্মেলনে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি এ ঘোষণা দেন। ট্রাম্প বলেন, এর ফলে ইউক্রেন নিজস্ব সক্ষমতায় প্যাট্রিয়ট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা উৎপাদন করতে পারবে। তবে নিরাপত্তার কারণে এসব ক্ষেপণাস্ত্র ইউক্রেনে নয়, জার্মানি বা অন্য কোনো ইউরোপীয় দেশে উৎপাদনের বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।



