উত্তর কোরিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা: দক্ষিণ কোরিয়ার জরুরি নিরাপত্তা বৈঠক
পারমাণবিক শক্তিধর উত্তর কোরিয়া আজ রোববার পরীক্ষামূলকভাবে একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে বলে দক্ষিণ কোরিয়ার সেনাবাহিনী নিশ্চিত করেছে। এটি সাম্প্রতিক সময়ে পিয়ংইয়ংয়ের ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের সর্বশেষ ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের সময় ও স্থান
দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তাঁরা আজ স্থানীয় সময় সকাল ৬টা ১০ মিনিটে উত্তর কোরিয়ার সিনপো এলাকা থেকে ‘ইস্ট সি’–তে বেশ কয়েকটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের ঘটনা শনাক্ত করেছেন। বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, সম্ভাব্য আরও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের কথা বিবেচনায় রেখে দক্ষিণ কোরিয়া নজরদারি ও সতর্কতা জোরদার করেছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার জরুরি পদক্ষেপ
এই ঘটনায় দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের কার্যালয় জরুরি নিরাপত্তা বৈঠক ডাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, উত্তর কোরিয়ার এসব পরীক্ষা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে সিউলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার যেকোনো উদ্যোগকে পিয়ংইয়ং আবারও নাকচ করে দিচ্ছে।
উত্তর কোরিয়ার সাম্প্রতিক অস্ত্র পরীক্ষার ধারা
গত কয়েক সপ্তাহে উত্তর কোরিয়া একের পর এক বিভিন্ন ধরনের অস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, যুদ্ধজাহাজবিধ্বংসী ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ক্লাস্টার যুদ্ধাস্ত্র। এই ধারাবাহিকতা দেশটির সামরিক শক্তি প্রদর্শনের একটি কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে।
দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উত্তেজনা
গত জানুয়ারিতে উত্তর কোরিয়ায় বেসামরিক ড্রোন অনুপ্রবেশের ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছিল দক্ষিণ কোরিয়া। সেই পদক্ষেপকে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং–উনের প্রভাবশালী বোন কিম ইয়ো জং ‘অত্যন্ত সৌভাগ্যজনক ও বিচক্ষণ আচরণ’ বলে বর্ণনা করেছিলেন। তবে চলতি মাসে উত্তর কোরিয়ার এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা দক্ষিণ কোরিয়াকে পিয়ংইয়ংয়ের ‘সবচেয়ে শত্রুভাবাপন্ন রাষ্ট্র’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। এর আগে কিম জং–উন নিজেও এই ভাষায় কথা বলেছিলেন।
আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ও উত্তর কোরিয়ার অবস্থান
পারমাণবিক অস্ত্র উন্নয়ন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তির ব্যবহারে উত্তর কোরিয়ার ওপর জাতিসংঘের একাধিক নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তবে দেশটি বারবার এসব নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে আসছে, যা আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।



