একুশ শতকের রূপকথা: প্রযুক্তির যুগে হারিয়ে যাওয়া রাজকন্যা ও সোনার কুঠারের খোঁজ
রূপকথার সেই রুপালি সম্ভাবনা নিয়ে আমাদের গল্প আজও চলমান। আমাদের রূপকথায় রাজা আর রানির দুঃখের দিন শেষ হয়ে যায়, পুত্র ও কন্যাসহ তারা সুখের বাকি জীবন কাটায়। কিন্তু এই গল্পে উড়ন্ত ঘোড়া বা এলিসের মতো চরিত্রের দেখা মেলে না। আমাদের রাজকন্যারা আজও অপেক্ষা করে, রাজপুত্রের জন্য, অথবা বরপ্রাপ্ত ভিনদেশি কাঠুরের জন্য—যিনি রাজকন্যাসহ অর্ধেক রাজত্ব লাভ করেন, আর পেয়ে যান সোনার কুঠার।
রূপকথার রুপালি দিনে রাজকন্যাবিরহের গান
রূপকথার রুপালি দিনে রাজকন্যাবিরহের গান গাওয়া হয়, আর আমাদের অগ্রগামীদের মন বিষণ্ন হয়ে ওঠে। আমরাও কাঁদতে বসি—এই ভেবে যে ‘রাজ্য ছেড়ে নৃপতি যদি যোগী না হন, তবে পদ্মাবতী আগুনে কেন পুড়ে মরবেন’। এমনি বহুতর ভাবাবেগে ভরে ওঠে আমাদের হৃদয়।
মেঘের রাজ্যে পাখা মেলে মেঘবালিকারা উড়ে বেড়ায়। কৈশোর বৃষ্টিতে কদম ফুলের গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে। যুবক তার ছেঁড়া পরিধেয় বস্ত্রে ধীরে ধীরে মুঠোফোনে রূপকথার মানে খোঁজে। সেখানে না আছে সোনালি কুঠার, না আছে এলিস। যা আছে তা হলো, অতি মানবীয় চিন্তার দোষে দুষ্ট নক্ষত্র আর অনেকগুলো, ভিন্ন রংয়ের, ভিন্ন মুখোশের মানুষ।
রূপকথার আকাশে হারিয়ে যাওয়া কান্না
রূপকথার আকাশ, বাতাস, অরণ্যে, দুর্দান্ত চলাচলে আমাদের কান্না হারিয়ে যায়। আমরা স্বপ্ন দেখি আমাদের জন্য অসম্ভব পৃথিবীর অপার্থিব আলোর। একুশ শতকের নতুন রূপকথার গল্প দেখি, আর মুখে বলি, তুমি তবে মানুষ বোঝ নাই।
আজকের রূপকথায় প্রযুক্তির ছোঁয়া লেগেছে। মুঠোফোনের পর্দায় খোঁজা হয় হারানো রাজকন্যাদের গল্প। সোনার কুঠারের বদলে এখন মানবীয় সম্পর্ক ও চিন্তার মূল্যবোধ গুরুত্ব পায়। ভিন্ন মুখোশের মানুষদের মধ্যে লুকিয়ে থাকে রূপকথার নতুন মাত্রা।
একুশ শতকের রূপকথা শুধু গল্প নয়, এটি আমাদের সময়ের দর্পণ। যেখানে রাজকন্যারা অপেক্ষা না করে নিজের পথ খোঁজে, আর সোনার কুঠারের বদলে মানবিকতাই হয়ে ওঠে সবচেয়ে বড় পুরস্কার। এই গল্পে কান্না হারিয়ে যায় না, বরং তা রূপ নেয় নতুন আশার আলোয়।



