মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা: ইরানের হুঁশিয়ারি, ইসরায়েলের সর্বোচ্চ সতর্কতা ও নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা: ইরানের হুঁশিয়ারি ও ইসরায়েলে বিক্ষোভ

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার পারদ তুঙ্গে: ইরানের হুঁশিয়ারি ও ইসরায়েলের সর্বোচ্চ সতর্কতা

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাথে চলমান যুদ্ধবিরতি চুক্তি সত্ত্বেও মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে উত্তেজনার মাত্রা আবারও চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার এবং প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ স্পষ্ট ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, ওয়াশিংটনকে তেহরান বিন্দুমাত্র বিশ্বাস করে না এবং যেকোনো মুহূর্তে নতুন করে লড়াই শুরু হতে পারে। রোববার ভোরে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক গুরুত্বপূর্ণ ভাষণে তিনি এই আশঙ্কার কথা ব্যক্ত করেন।

যুক্তরাষ্ট্রের সাথে যুদ্ধবিরতি: অনিশ্চয়তা ও উত্তেজনা

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দুই সপ্তাহের চলমান সাময়িক যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধি এবং একটি স্থায়ী সমাধানের বিষয়ে গভীর অনিশ্চয়তার মধ্যেই ইরানের এই কঠোর মন্তব্য সামনে এসেছে। ইরানের সতর্কবার্তার পরপরই ইসরায়েলি সেনাবাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় থাকার নির্দেশ পেয়েছে। ইসরায়েলি আর্মি রেডিও সামরিক ও রাজনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, ইরানের সঙ্গে সম্পাদিত যুদ্ধবিরতি চুক্তির সম্ভাব্য সমাপ্তি এবং আকস্মিক হামলার আশঙ্কায় দেশটির সশস্ত্র বাহিনীকে ‘হাই অ্যালার্ট’ বা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রাখা হয়েছে।

যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সীমান্ত অঞ্চল এবং কৌশলগত অবস্থানগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ব্যাপকভাবে জোরদার করা হয়েছে। এই যুদ্ধংদেহী পরিস্থিতির মধ্যেই অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ইসরায়েলে বিক্ষোভ: নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে জনরোষ

শনিবার রাতে তেল আবিব শহরে কয়েক হাজার মানুষ বিশাল বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন। বিক্ষোভকারীরা প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর সরকারের পদত্যাগ এবং অবিলম্বে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাদের অভিযোগ, নেতানিয়াহু নিজের ব্যক্তিগত স্বার্থ রক্ষায় দেশকে এক অন্তহীন যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিয়েছেন।

বিক্ষোভকারী রাফায়েল পিনাইনা মন্তব্য করেন যে, প্রধানমন্ত্রী ভেতর থেকে ইসরায়েলি সমাজকে ধ্বংস করছেন এবং পশ্চিমা বিশ্বের সাথে দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক নষ্ট করছেন। বিক্ষোভ সমাবেশে অংশ নেওয়া সাধারণ নাগরিক ও সমাজকর্মীরা গত ৭ অক্টোবর এবং পরবর্তী ঘটনাগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন। তারা দৃঢ়ভাবে মনে করেন, জনগণের সত্য জানার মৌলিক অধিকার আছে।

শোকাতুর পরিবার ও কৌশলগত ভুলের অভিযোগ

সমাজকর্মী লি হফম্যান-আজিভ জানান, তিনি সেইসব শোকাতুর পরিবারের পাশে দাঁড়াতে এসেছেন, যারা প্রধানমন্ত্রীর শুরু করা এই দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধে প্রিয়জন হারিয়েছেন। বিক্ষোভকারীদের অনেকেই মনে করেন, লেবানন ও ইরানে যুদ্ধ শুরু করা ইসরায়েলের একটি বড় কৌশলগত ভুল ছিল।

হাইম ট্রিভ্যাক্স নামে এক প্রতিবাদকারী সরাসরি অভিযোগ করেন যে, নেতানিয়াহু দেশের বৃহত্তর স্বার্থের কথা চিন্তা না করে কেবল সম্ভাব্য কারাদণ্ড থেকে নিজেকে বাঁচাতেই যুদ্ধের এই পথ বেছে নিয়েছেন। এই বিক্ষোভ মধ্যপ্রাচ্যের জটিল রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ বিভাজনকেও স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে।