ইরানের ওপর নৌ-অবরোধের হুমকি ট্রাম্পের, আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর কঠোর পদক্ষেপের ইঙ্গিত
ইরানের ওপর নৌ-অবরোধের হুমকি ট্রাম্পের, আলোচনা ব্যর্থ

ইরানের ওপর নৌ-অবরোধের হুমকি দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সাম্প্রতিক আলোচনা কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হওয়ার পর এবার তেহরানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রবিবার (১২ এপ্রিল) ইরায়েলভিত্তিক সংবাদমাধ্যম টাইম অব ইসরায়েলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ একটি নিবন্ধ শেয়ার করেছেন, যেখানে ইরানের ওপর ‘নৌ-অবরোধ’ আরোপের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

ইরান শর্ত মেনে না নিলে কী হবে?

ট্রাম্প-সমর্থক সংবাদমাধ্যম ‘জাস্ট দ্য নিউজ’-এ প্রকাশিত ওই নিবন্ধটির শিরোনাম ছিল, ‘ইরান মাথা নত না করলে প্রেসিডেন্টের হাতে থাকা তুরুপের তাস: নৌ-অবরোধ’। নিবন্ধে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, ইরান যদি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শর্তাবলি মেনে নিতে ব্যর্থ হয়, তবে দেশটির ওপর নৌ-অবরোধ আরোপ করা হতে পারে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে ইরানের অর্থনীতিকে শ্বাসরুদ্ধ করে দেওয়া সম্ভব হবে বলে দাবি করা হয়েছে।

এতে আরও উল্লেখ করা হয় যে, এই অবরোধ শুধু ইরানকেই নয়, বরং তার মিত্র দেশ চীন ও ভারতকেও চাপের মুখে ফেলবে। কারণ, দেশ দুটি ইরানি তেলের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল, এবং নৌ-অবরোধের ফলে তাদের জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরণের বিঘ্ন ঘটতে পারে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ট্রাম্পের আগের ‘সফল অবরোধ কৌশল’

নিবন্ধটিতে দাবি করা হয়েছে, ট্রাম্পের এই সম্ভাব্য পদক্ষেপ তার আগের ‘সফল অবরোধ কৌশলের’ পুনরাবৃত্তি হতে পারে। উদাহরণ হিসেবে গত জানুয়ারিতে ভেনেজুয়েলার নেতা নিকোলাস মাদুরোকে মার্কিন বাহিনীর হাতে আটকের আগে দেশটির ওপর নৌ-অবরোধ আরোপের ঘটনাটি উল্লেখ করা হয়েছে। সেই অবরোধ ভেনেজুয়েলার অর্থনীতিকে পুরোপুরি ধসিয়ে দিয়েছিল, যা ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য একটি কার্যকর কৌশল হিসেবে প্রমাণিত হয়েছিল।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

এই প্রেক্ষাপটে, ইরানের ওপর অনুরূপ নৌ-অবরোধ আরোপ করা হলে তেহরানের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। ট্রাম্পের এই হুমকি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে, বিশেষ করে মধ্য প্রাচ্য অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের নীতির দিকনির্দেশনা নিয়ে আলোচনা বাড়িয়ে দিয়েছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে, ইরান কীভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই চ্যালেঞ্জের মোকাবেলা করে, তা এখন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ট্রাম্পের এই ঘোষণা ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্কের গতিপথ নির্ধারণে একটি বড় ভূমিকা পালন করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।