আফগানিস্তানের হেরাতে পিকনিক স্পটে সশস্ত্র হামলায় নিহত ১১, আহত ১৫
আফগানিস্তানে পিকনিক স্পটে হামলায় নিহত ১১

আফগানিস্তানের হেরাতে পিকনিক স্পটে সশস্ত্র হামলায় নিহত ১১

আফগানিস্তানের পশ্চিমাঞ্চলীয় হেরাত প্রদেশে একটি পিকনিক স্পটে সংঘটিত সশস্ত্র হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১১ জনে দাঁড়িয়েছে। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) এনজিল জেলার দেহ মেহরি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে, যেখানে প্রথমে নিহতের সংখ্যা কম জানানো হলেও পরে গুরুতর আহতদের মৃত্যু হওয়ায় হতাহতের সংখ্যা বাড়ে।

ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানায়, ঘটনার পর প্রাদেশিক কর্মকর্তারা প্রাথমিকভাবে চারজন নিহতের কথা নিশ্চিত করেছিলেন। তবে পরবর্তীতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরও সাতজনের মৃত্যু হলে মোট নিহতের সংখ্যা ১১ জনে পৌঁছায়। এ হামলার দায় এখনো কোনো গোষ্ঠী স্বীকার করেনি। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র জানান, মোটরসাইকেলে করে আসা অজ্ঞাত সশস্ত্র হামলাকারীরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাধারণ মানুষের ওপর গুলি চালায়। শুক্রবার হওয়ায় ওই বিনোদনস্থলে মানুষের ভিড় বেশি ছিল, যা হামলার প্রভাব বাড়িয়ে দেয়।

হতাহতদের পরিচয় ও আহতদের অবস্থা

হেরাতের এক চিকিৎসক জানান, নিহতরা সবাই শিয়া মুসলিম এবং তারা একটি স্থানীয় মাজারে পিকনিক করতে গিয়েছিলেন। আফগানিস্তানে সংখ্যালঘু শিয়া সম্প্রদায় অতীতেও একাধিকবার এ ধরনের হামলার শিকার হয়েছে, যা সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার ইঙ্গিত দেয়। হেরাতে তালেবান সরকারের তথ্য ও সংস্কৃতি বিভাগের প্রধান আহমাদুল্লাহ মুত্তাকি বলেন, স্থানীয় সময় বিকেল প্রায় ৩টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। তিনি জানান, এনজিল জেলার দেহ মেহরি গ্রামে বেড়াতে যাওয়া স্থানীয় বাসিন্দাদের লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

তিনি আরও বলেন, ঘটনাস্থল থেকে চারটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং দুই নারীসহ অন্তত ১৫ জন আহতকে হেরাত আঞ্চলিক হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। আহতদের মধ্যে অনেকের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে, যা মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি করে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

নিরাপত্তা বাহিনীর পদক্ষেপ ও স্থানীয় প্রতিক্রিয়া

এ ঘটনায় একজন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করেছে নিরাপত্তা বাহিনী, যা তদন্তের অগ্রগতি নির্দেশ করে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আবদুল মতিন কানি জানান, হামলাস্থলটি শিয়া অধ্যুষিত এলাকা এবং সেখানে একটি শিয়া মাজার রয়েছে। প্রতিদিন বহু মানুষ নামাজ ও জিয়ারতের জন্য সেখানে যান, যা এই স্থানটিকে একটি সংবেদনশীল এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করে।

স্থানীয় বাসিন্দারা নিরাপত্তাহীনতা ও ভয়ের মধ্যে রয়েছেন, কারণ এ ধরনের হামলা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির জন্য হুমকি সৃষ্টি করে। আফগানিস্তানে চলমান রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতা এ ধরনের ঘটনাকে উসকে দিতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন।

এই হামলা আফগানিস্তানের নিরাপত্তা পরিস্থিতির দুর্বল দিকগুলো উন্মোচন করেছে এবং সরকারের পক্ষ থেকে জোরালো পদক্ষেপের আহ্বান জানানো হচ্ছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও এই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য আহ্বান জানিয়েছে।