ইসরাইলের হামলায় হিজবুল্লাহ নেতার ঘনিষ্ঠ সহকারী নিহতের দাবি
ইসরাইলি সেনাবাহিনী বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল ২০২৬) এক সামরিক বিবৃতিতে দাবি করেছে যে, লেবাননের রাজধানী বৈরুতে বুধবার (৮ এপ্রিল) সংঘটিত হামলায় হিজবুল্লাহ নেতা নাঈম কাসেমের ঘনিষ্ঠ সহকারী আলি ইউসুফ হারশিকে হত্যা করা হয়েছে। বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, হারশি কাসেমের ব্যক্তিগত সচিব ও ভাতিজা ছিলেন এবং তিনি কার্যালয় পরিচালনা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতেন।
হামলার বিস্তারিত ও হতাহতের পরিসংখ্যান
বুধবার গভীর রাতে ইসরাইলি যুদ্ধবিমান বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলের লাইলাকি-কাফাত এলাকায় হামলা চালায়, যার ফলে রাজধানীজুড়ে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় বলে লেবাননের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা জানিয়েছে। লেবাননের সিভিল ডিফেন্সের তথ্য অনুযায়ী, বৈরুতসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ইসরাইলি হামলায় ৩০০ এরও বেশি মানুষ নিহত এবং ১,১০০ এরও বেশি আহত হয়েছেন।
এদিকে, লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুসারে, গত ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া ইসরাইলি হামলায় এখন পর্যন্ত মোট নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১,৭৩৯ জনে দাঁড়িয়েছে এবং আহত হয়েছেন ৫,৮৭৩ জন। এই সংখ্যা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
হিজবুল্লাহর প্রতিক্রিয়া ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট
ইসরাইলের এই হত্যার দাবি সম্পর্কে হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে এখনও কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে, এই ঘটনা লেবাননে চলমান সংঘাতের তীব্রতা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। উল্লেখ্য, বুধবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেওয়া হলেও লেবাননে ইসরাইল প্রাণঘাতী হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক অনেক নেতা এই যুদ্ধবিরতি লেবাননেও সম্প্রসারণের আহ্বান জানালেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল এর বিরোধিতা করছে।
ইসরাইলি সেনাপ্রধান ইতিমধ্যে লেবাননকে ‘প্রধান যুদ্ধক্ষেত্র’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন, যা আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে লেবাননের সাধারণ জনগণ মারাত্মক নিরাপত্তাহীনতা ও মানবিক সংকটের মুখোমুখি হচ্ছেন বলে বিশ্লেষকরা মত প্রকাশ করেছেন।



