চকলেটে ফিরে এলো হাজার বছরের চিত্রকর্ম
চকলেটে ফিরে এলো হাজার বছরের চিত্রকর্ম

চকলেটে ফিরে এলো হাজার বছরের চিত্রকর্ম

চকলেট দিয়ে প্রাচীন শিল্পকর্মের এই ক্ষুদ্র সংস্করণটি তৈরি করেছেন চীনের ব্লগার ফান সুমু। চকলেটের ওজন ৬০ কেজি। তিন মাসের অক্লান্ত পরিশ্রম আর এক তরুণীর অসাধারণ নিষ্ঠার মিলনে চীনে নতুন করে জীবন্ত হয়ে উঠল হাজার বছরের প্রাচীন বিখ্যাত চিত্রকর্ম।

অনন্য সৃষ্টি

চীনের ব্লগার ফান সুমু সম্প্রতি চকলেট দিয়ে ‘অ্যালং দ্য রিভার ডিউরিং দ্য কিংমিং ফেস্টিভ্যাল’ নামের একটি প্রাচীন চিত্রকর্মের এক অবিশ্বাস্য ত্রিমাত্রিক ক্ষুদ্র সংস্করণ তৈরি করেছেন। শিল্পকলায় তাঁর কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নেই। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিষয়ে পড়াশোনা করা এই তরুণী শিল্পকর্মবিষয়ক সবকিছু অনলাইনে ভিডিও দেখে শিখেছেন।

ভাইরাল ভিডিও

গত মে মাসের শেষ দিকে ফানের ভিডিওটি প্রকাশ পেতেই ইন্টারনেটে আলোচনার ঝড় ওঠে। মুহূর্তেই প্রায় ১০ লাখ লাইক পড়ে। চিত্রকর্মটি মূলত উত্তর সং রাজবংশের চিত্রশিল্পী ঝাং জেদুয়ানের আঁকা। এতে বিয়ান নদীর তীরে প্রাচীন বিয়ানজিং নগরীর জীবন্ত চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পরিমাণ ও সূক্ষ্মতা

ফানের তৈরি চকলেট সংস্করণটি দৈর্ঘ্যে ৭ মিটার এবং প্রস্থে ১ দশমিক ২২ মিটার। এতে ১৭৬টি বাড়ি, ২৮১টি গাছ, ২০টির বেশি নৌকা ও ৮১৬ জন মানুষের অবয়ব রয়েছে। এই চকলেট শিল্পকর্মে কাজের সূক্ষ্মতা রীতিমতো অবাক করার মতো। প্রতিটি মানবমূর্তি মাত্র দুই সেন্টিমিটার উঁচু আর ক্ষুদ্রতম জানালাটি এক সেন্টিমিটারের কম। চকলেট গলিয়ে পাইপিং ব্যাগে ভরে তৈরি করা হয়েছে চুলের মতো সরু দড়িও।

চ্যালেঞ্জ ও অধ্যবসায়

শিল্পকর্মটি তৈরি করতে ফানকে নানা সমস্যায় পড়তে হয়েছে। নিজের বাড়ির বসার ঘরে শুরু করা এ বিশাল কর্মযজ্ঞের জন্য পরে তাঁকে ২৫ কিলোমিটার দূরে বড় একটি বাড়ি ভাড়া নিতে হয়। স্থানান্তরের সময় অনেক অংশ ভেঙে গেলেও তিনি দমে যাননি।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অতীতের সাফল্য ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

এর আগে বেইজিংয়ের ‘হল অব সুপ্রিম হারমনি’, প্যারিসের ‘আইফেল টাওয়ার’ কিংবা বিশ্বখ্যাত ‘মোনালিসা’ চিত্রকর্মেরও চকলেট সংস্করণ তৈরি করেছেন ফান। ভবিষ্যতে চকলেটের মাধ্যমে ঐতিহ্যবাহী চীনা স্থাপত্যকে বিশ্বের দরবারে আরও ছড়িয়ে দেওয়ার স্বপ্ন দেখছেন এই তরুণী। নেটিজেনরা বলছেন, এ কাজ গিনেস রেকর্ডের দাবি রাখে।