বজ্রাঘাতে জয়পুরহাটে দুইজনের মৃত্যু
বজ্রাঘাতে জয়পুরহাটে নারী-কৃষকের মৃত্যু

আষাঢ়ের আগমনী বার্তা নিয়ে আকাশে জমেছিল কালো মেঘ। মাঠজুড়ে তখন কৃষকের ব্যস্ততা, বাড়ির বাইরে ধান রক্ষার তাড়াহুড়া। কিন্তু সেই সময় জয়পুরহাটের দুটি পরিবারে বয়ে আনে সীমাহীন শোক। বুধবার বিকালে বজ্রাঘাত কেড়ে নেয় দুই মানুষের জীবন।

দুই পৃথক স্থানে বজ্রাঘাত

জয়পুরহাট সদর উপজেলার থিয়ট বিলপাড়া গ্রামের জাহানারা বেগম (৩০) এবং পাঁচবিবি উপজেলার কুয়াতপুর গ্রামের কৃষক শামসুদ্দিন (৬০) পৃথক স্থানে বজ্রাঘাতে প্রাণ হারিয়েছেন।

জাহানারা বেগমের মৃত্যু

স্থানীয়দের ভাষ্য, বিকালে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বাড়ির পাশে ধান শুকানোর কাজে ব্যস্ত ছিলেন জাহানারা বেগম। হঠাৎ আকাশ কালো হয়ে আসে। শুরু হয় বৃষ্টি আর মেঘের গর্জন। ভিজে যাওয়ার আশঙ্কায় সড়কের পাশে শুকাতে দেওয়া ধান দ্রুত ঢেকে রেখে বাড়ি ফিরছিলেন তিনি। কিন্তু কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই আকাশ চিরে নেমে আসে বজ্রের নির্মম আঘাত। জমির আইলের ওপর লুটিয়ে পড়েন জাহানারা।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পরিবারের সদস্যরা ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় বাজারের এক পল্লী চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান। কিন্তু ততক্ষণে সব শেষ। চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

থিয়ট গ্রামের বাসিন্দা খন্দকার মো. সুফল জানান, জাহানারা বেগম জীবিকার তাগিদে চানাচুর বিক্রি করতেন। সংসারের হাল ধরতে প্রতিদিন সংগ্রাম করতেন তিনি। সেই সংগ্রামী নারীর জীবন শেষ হলো প্রকৃতির এক আকস্মিক রোষানলে।

শামসুদ্দিনের মৃত্যু

অন্যদিকে, একই সময়ে পাঁচবিবি উপজেলার কুয়াতপুর গ্রামে কৃষক শামসুদ্দিন বৃষ্টির মধ্যে মাঠে কাজ করছিলেন। কৃষকের জীবন যেমন মাটির সঙ্গে মিশে থাকে, তেমনি মাঠেই নেমে আসে তার জীবনের শেষ মুহূর্ত। হঠাৎ বজ্রপাতের আঘাতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

এক বিকালের বজ্রধ্বনি স্তব্ধ করে দিয়েছে দুটি পরিবারকে। যে হাতে ছিল জীবিকার সংগ্রাম, যে মানুষটি মাঠে ফসলের স্বপ্ন বুনছিলেন, তারা আর ফিরবেন না আপনজনদের কাছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ