লেবাননে ইসরাইলের হামলায় উত্তেজনা: যুক্তরাষ্ট্রকে 'বোকামি'র হুঁশিয়ারি দিল ইরান
লেবাননে ইসরাইলের হামলা: যুক্তরাষ্ট্রকে হুঁশিয়ারি ইরানের

লেবাননে ইসরাইলের হামলায় উত্তেজনা: যুক্তরাষ্ট্রকে 'বোকামি'র হুঁশিয়ারি দিল ইরান

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতির মধ্যেও লেবানন ইস্যুতে ফের নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ইসরাইলের অব্যাহত হামলায় শতাধিক মানুষের প্রাণহানির পর এবার সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রকে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ইসরাইলকে কূটনীতি নস্যাৎ করতে দিলে সেটি হবে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘বোকামি’।

আলজাজিরার প্রতিবেদন ও ইরানের অবস্থান

আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরাইলকে লেবাননে হামলা চালিয়ে আঞ্চলিক যুদ্ধবিরতি ভেস্তে দিতে দিলে তা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘বোকামি’ হবে বলে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি মন্তব্য করেছেন। মূলত যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে লেবাননে ইসরাইলের তীব্র হামলায় শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছেন। আরাগচি বলেন, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দুর্নীতির বিচার আগামী রোববার আবার শুরু হচ্ছে। তার মতে, এই যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার পেছনে নেতানিয়াহুর অন্য উদ্দেশ্য থাকতে পারে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আরাগচির বক্তব্য

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি লেখেন, ‘লেবাননসহ আঞ্চলিক পর্যায়ে একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলে দ্রুতই তার (নেতানিয়াহু) কারাবরণ ত্বরান্বিত হবে।’ এরপর যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, ‘যদি যুক্তরাষ্ট্র চায়, নেতানিয়াহুকে কূটনীতি ধ্বংস করতে দিয়ে নিজেদের অর্থনীতি বিপর্যস্ত করুক— তা তাদেরই সিদ্ধান্ত। আমরা মনে করি এটি বোকামি, তবে আমরা এর জন্য প্রস্তুত আছি।’

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্টের বক্তব্যের সঙ্গে মিল

আরাগচির এই বক্তব্যের ভাষার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের বক্তব্যের অনেকটা মিল রয়েছে। ভ্যান্স গত বুধবার বলেছিলেন, লেবানন ইস্যুতে যুদ্ধবিরতি ভেঙে যেতে দেওয়া ইরানিদের জন্য ‘বোকামি’ হবে, তবে সেটি তাদের সিদ্ধান্ত। প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর থেকেই এটি লেবাননের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য কিনা— এই প্রশ্ন বড় একটি সংকট হিসেবে দেখা দিয়েছে এবং সেটিই এখন যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যতের জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠেছে।

ইরানের সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া

ইরানি কর্মকর্তারা এবং দেশটির গণমাধ্যম ইঙ্গিত দিয়েছে, লেবাননে ইসরাইলের হামলার জবাবে তেহরান সামরিক প্রতিক্রিয়া জানাতে পারে অথবা যুদ্ধবিরতি কার্যকর করতে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিতে পারে। বৃহস্পতিবার ট্রাম্প বলেন, তিনি ইসরাইল সরকারকে লেবাননে তাদের সামরিক অভিযান কমাতে বলেছেন। এনবিসি নিউজকে তিনি বলেন, ‘আমি বিবি (নেতানিয়াহু)-এর সঙ্গে কথা বলেছি, সে কিছুটা কমাবে। আমার মনে হয়, আমাদের একটু শান্ত থাকতে হবে’।

এই পরিস্থিতিতে আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইরানের হুঁশিয়ারি এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া ভবিষ্যতের কূটনৈতিক ও সামরিক গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, লেবাননে ইসরাইলের হামলা বন্ধ না হলে পুরো অঞ্চলেই নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হতে পারে।