ট্রাম্পের হুমকিতে যুদ্ধবিরতি, ইরানের সঙ্গে শান্তি চুক্তির পথে যুক্তরাষ্ট্র
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্টের মাধ্যমে ইরানের সঙ্গে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি ‘চূড়ান্ত’ শান্তি চুক্তির পথে ‘অনেক দূর’ এগিয়েছে। এই ঘোষণা আসে ট্রাম্পের দেওয়া সময়সীমা শেষ হওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে, যখন তিনি হুমকি দিয়েছিলেন যে রাত ৮টার মধ্যে চুক্তি না হলে ইরানের জ্বালানি ও যোগাযোগ অবকাঠামোতে বড় ধরনের হামলা চালানো হবে।
যুদ্ধবিরতির শর্ত ও ইরানের প্রতিক্রিয়া
এই যুদ্ধবিরতি কিছু শর্তের ওপর নির্ভর করছে। ইরানকে সব ধরনের সংঘাত বন্ধ করতে হবে এবং বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দিতে হবে। ইরান সরকার এই শর্ত মানার কথা জানিয়েছে, তবে তারা দাবি করেছে যে এই জলপথের ওপর তাদের ‘কর্তৃত্ব’ বজায় আছে। এই চুক্তির ফলে ট্রাম্প একটি কঠিন সংকট থেকে রেহাই পেয়েছেন, যেখানে তাকে হয় যুদ্ধ শুরু করতে হতো, না হয় নিজের বিশ্বাসযোগ্যতা হারাতে হতো।
বিশ্ববাজারে ইতিবাচক প্রভাব
এই যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পর বিশ্ববাজারে তাৎক্ষণিক ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ১০০ ডলারের নিচে নেমেছে এবং মার্কিন শেয়ারবাজারে সূচক বেড়েছে। সবার মধ্যে একটি আশা তৈরি হয়েছে যে সবচেয়ে খারাপ সময় হয়তো শেষ হয়েছে। আগামী দুই সপ্তাহ দুপক্ষ আলোচনায় বসবে এবং একটি স্থায়ী চুক্তিতে পৌঁছানোর চেষ্টা করবে, যদিও এই আলোচনার পথ সহজ হবে না বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।
ট্রাম্পের হুমকি ও রাজনৈতিক সমালোচনা
গত মঙ্গলবার সকালে ট্রাম্প ইরানি সভ্যতাকে চিরতরে ধ্বংস করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন, যা আধুনিক যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে নজিরবিহীন বলে বিবেচিত হচ্ছে। এই হুমকির পর ডেমোক্র্যাটরা ট্রাম্পের বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করেছেন, এমনকি কিছু নেতা তাকে প্রেসিডেন্ট পদ থেকে সরানোর দাবিও তুলেছেন। কংগ্রেস সদস্য জোয়াকিন কাস্ত্রো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ‘প্রেসিডেন্টের মানসিক অবস্থার অবনতি ঘটছে, তিনি দেশ চালানোর যোগ্য নন’।
রিপাবলিকানদের মধ্যে বিভক্তি
যদিও রিপাবলিকান দলের অনেক সদস্য ট্রাম্পের পাশে দাঁড়িয়েছেন, তবে সাধারণত তিনি যেমন একচেটিয়া সমর্থন পান, এবার সেটা দেখা যায়নি। জর্জিয়ার রিপাবলিকান কংগ্রেস সদস্য অস্টিন স্কট ট্রাম্পের হুমকির কড়া সমালোচনা করেছেন এবং বলেছেন, ‘প্রেসিডেন্টের মন্তব্যে হিতে বিপরীত হতে পারে’। উইসকনসিনের সিনেটর রন জনসন, যিনি সাধারণত ট্রাম্পের অনুগত, তিনি বলেছেন যে ট্রাম্প যদি বোমা হামলা চালিয়ে যেতেন, সেটি হতো এক ‘বিরাট ভুল’।
আগামী চ্যালেঞ্জ ও স্থায়ী সমাধানের অনিশ্চয়তা
এই যুদ্ধবিরতি ট্রাম্পের জন্য একটি রাজনৈতিক বিজয় হিসেবে দেখা হচ্ছে, তবে এটি কেবল একটি সাময়িক স্বস্তি এবং কোনো স্থায়ী সমাধান নয়। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন যে ইরান ‘প্রতিরক্ষামূলক অভিযান’ বন্ধ রাখবে, তবে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল করতে হবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে। ইরানের ১০ দফার মূল রূপরেখা, যার মধ্যে অঞ্চলটি থেকে মার্কিন সৈন্য প্রত্যাহার ও নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া অন্তর্ভুক্ত, তা নিয়ে আগামী দুই সপ্তাহের আলোচনা অত্যন্ত জটিল হতে পারে।
ট্রাম্পের এই আগ্রাসী আচরণ ও যুদ্ধের কারণে দীর্ঘ মেয়াদে কী ক্ষতি হলো, তা মূল্যায়ন করার সময় এখনো আসেনি। বিশ্ব রাজনীতিতে এই পুরো বিষয়টি নিয়ে গভীর পর্যবেক্ষণ চলছে, এবং এটি যুক্তরাষ্ট্রের ভাবমূর্তি বদলে দিতে পারে বলে বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন।



