হিজবুল্লাহর পাল্টা রকেট হামলায় উত্তপ্ত ইসরাইলের উত্তরাঞ্চল
লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ ইসরাইলের উত্তরাঞ্চলে রকেট হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের জবাব হিসেবেই এই হামলা পরিচালনা করা হয়েছে। গোষ্ঠীটি স্পষ্ট ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, 'লেবাননের বিরুদ্ধে ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসন বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত তারা তাদের হামলা চালিয়ে যাবে।'
ইসরাইলের ব্যাপক বোমা হামলার প্রেক্ষাপট
এই ঘটনার আগে বুধবার (৮ এপ্রিল) লেবাননে ব্যাপক বোমা হামলা চালায় ইসরাইল। এই হামলায় কমপক্ষে একদিনে অন্তত ২৫৪ জন নিহত এবং ১ হাজার ১৬৫ জনের বেশি আহত হয়েছেন। এতে মর্মাহত লেবানন সরকার একদিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে। বুধবারের এই হামলার পর লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নওয়াফ সালাম বলেছেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় তিনি 'সব ধরনের ব্যবস্থা' গ্রহণের জন্য কাজ করছেন।
নেতানিয়াহুর কঠোর অবস্থান
এদিকে, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে ইরানের সাথে কোনো সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি হলেও লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে চলমান হামলা বন্ধ করবে না তার দেশ। বুধবার লেবাননজুড়ে ইসরাইলের ব্যাপক ও প্রাণঘাতী হামলার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এই কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেন।
সংবাদ সম্মেলনে নেতানিয়াহু জোর দিয়ে বলেন, হিজবুল্লাহর ওপর হামলা অব্যাহত থাকবে এবং এই সশস্ত্র গোষ্ঠীকে কোনো প্রকার ছাড় দেওয়া হবে না। তিনি উল্লেখ করেন, ইসরাইলি বাহিনী হিজবুল্লাহর এমন সব গোপন আস্তানায় আঘাত হেনেছে যা গোষ্ঠীটি এতদিন নিজেদের জন্য নিরাপদ বলে মনে করত।
অঞ্চলটিতে উত্তেজনার ক্রমবর্ধমান চাপ
এই ঘটনাগুলো মধ্যপ্রাচ্যের অঞ্চলটিতে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। হিজবুল্লাহর রকেট হামলা এবং ইসরাইলের ব্যাপক বোমা হামলা উভয়ই আঞ্চলিক সংঘাতের নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই পরিস্থিতিতে লেবানন ও ইসরাইলের মধ্যে সরাসরি সংঘাতের ঝুঁকি বেড়ে গেছে।
- হিজবুল্লাহর রকেট হামলা ইসরাইলের উত্তরাঞ্চলকে লক্ষ্য করে পরিচালিত।
- ইসরাইলের বোমা হামলায় লেবাননে ২৫৪ জন নিহত ও ১,১৬৫ জনের বেশি আহত।
- লেবানন সরকার একদিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে।
- ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে হামলা অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন।
এই সংঘাতের পটভূমিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন এবং পাল্টা হামলার এই চক্র অঞ্চলটিতে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকে জটিল করে তুলছে।



