যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক মহাকাশ ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স ইতিহাসের বৃহত্তম প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) আনার লক্ষ্য নিয়েছে। বুধবার মার্কিন পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে (এসইসি) জমা দেওয়া নথিতে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, তারা ৭ হাজার ৫০০ কোটি ডলার তহবিল সংগ্রহের পরিকল্পনা করছে। এই আইপিওর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির মোট বাজার মূল্যায়ন ধরা হয়েছে ১ লাখ ৭৭ হাজার কোটি ডলার।
শেয়ার বিক্রির বিবরণ
নথি অনুযায়ী, স্পেসএক্স প্রতিটি শেয়ারের মূল্য ১৩৫ ডলার নির্ধারণ করে ৫৫ কোটি ৫০ লাখের বেশি শেয়ার বিক্রির জন্য বাজারে ছাড়বে। শেয়ার বিক্রির প্রক্রিয়া ১২ জুনের মধ্যে সম্পন্ন হতে পারে। সেক্ষেত্রে বর্তমান আইপিও তহবিল সংগ্রহের রেকর্ড ২ হাজার ৫৬০ কোটি ডলার ভেঙে যাবে। বর্তমান রেকর্ডটি সৌদি আরবের জাতীয় তেল কোম্পানি সৌদি আরামকোর দখলে রয়েছে।
স্পেসএক্সের উত্থান
ধনকুবের ইলন মাস্ক ২০০২ সালে স্পেসএক্স প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর লক্ষ্য ছিল মানুষকে মঙ্গল গ্রহে নিয়ে বসতি স্থাপন করা। বর্তমানে স্পেসএক্স নাসার অন্যতম প্রধান ঠিকাদার ও স্যাটেলাইটভিত্তিক ইন্টারনেট সেবাদাতা। প্রতিষ্ঠানটি মাস্কের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক স্টার্টআপ এবং একসময়ের টুইটার নামে পরিচিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মও অন্তর্ভুক্ত করেছে।
প্রতিষ্ঠার প্রেক্ষাপট
দক্ষিণ আফ্রিকায় জন্ম নেওয়া ইলন মাস্ক মাত্র ৩০ বছর বয়সে স্পেসএক্স প্রতিষ্ঠা করেন। এর আগে তিনি নিজের ডটকম ব্যবসা জিপ২ বিক্রি করেন এবং একটি অনলাইন পেমেন্ট কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেন, যা পরে একীভূত হয়ে পেপ্যাল হয়। পরবর্তীতে পেপ্যাল ইবে অধিগ্রহণ করে। ব্যবসায়িক সাফল্যের জেরে মাস্কের হাতে প্রচুর অর্থ আসে। তখন নাসার কাছে মঙ্গল গ্রহে কোনো আসন্ন অভিযানের পরিকল্পনা ছিল না।
মহাকাশ ভ্রমণে জনসাধারণের আগ্রহ বাড়াতে মাস্ক কাচের তৈরি একটি ক্ষুদ্র গ্রিনহাউসে বীজ পাঠিয়ে মঙ্গলের পৃষ্ঠে উদ্ভিদ জন্মানোর পরিকল্পনা করেন। তবে তা পাঠানোর উপযুক্ত উপায় না পাওয়ায় তিনি একটি রকেট কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেন।
প্রাথমিক ব্যর্থতা ও সাফল্য
শুরুর দিনগুলোতে স্পেসএক্স বারবার ব্যর্থতার মুখে পড়ে এবং বিপুল আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়। অবশেষে ২০০৮ সালে ফ্যালকন ১ রকেট সফলভাবে উৎক্ষেপণ করতে সক্ষম হয়। পরে কোম্পানিটি আংশিকভাবে পুনর্ব্যবহারযোগ্য রকেট তৈরি করে এবং নাসাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি করে।
ফ্যালকন ৯ রকেট স্পেসএক্সের প্রধান ভরসায় পরিণত হয়। ২০১২ সালে ড্রাগন মহাকাশযান আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে (আইএসএস) সরবরাহ পৌঁছে দেয়। স্পেসএক্সই প্রথম বেসরকারি কোম্পানি হিসেবে মনুষ্যবাহী মহাকাশযানে নভোচারীদের মহাকাশে নিয়ে যায়।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
স্পেসএক্সের বিশালাকৃতির স্টারশিপ রকেটের উন্নয়ন দ্রুতগতিতে চলছে। এর লক্ষ্য বিশ্বের প্রথম সম্পূর্ণ পুনর্ব্যবহারযোগ্য কক্ষপথগামী রকেট হওয়া। রকেটটির ওপরের অংশ একই সঙ্গে মানুষ ও মালামাল বহন করতে সক্ষম হবে।
স্পেসএক্সের এই আইপিও মহাকাশশিল্পে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে ধারণা বিশ্লেষকদের।



