কোক স্টুডিও বাংলায় ‘রুমঝুম’ গেয়ে তুর্কি শিল্পীর অভিজ্ঞতা
কোক স্টুডিও বাংলায় ‘রুমঝুম’ গেয়ে তুর্কি শিল্পীর অভিজ্ঞতা

‘রুমঝুম’ গাওয়ার প্রস্তাব পান কীভাবে?

তুর্কি শিল্পী হান্দে চেভগেল জানিয়েছেন, শুটিংয়ের কিছুদিন আগে তিনি ‘রুমঝুম’ গাওয়ার প্রস্তাব পান। তিনি আগপাছ না ভেবেই সায় দেন। গানের সহশিল্পী মোস্তফা ইপেক তাঁর খুব ভালো বন্ধু, সেই সূত্র ধরেই তিনি কাজটিতে যুক্ত হন।

ঢাকায় প্রথম ভ্রমণের অভিজ্ঞতা

প্রথমবার ঢাকায় এসে হান্দে চেভগেলের কাছে শহরটি ভিড়ভাট্টা ও কোলাহলপূর্ণ মনে হয়েছে। তিনি বলেন, ‘শহরটি একই সঙ্গে খুব সবুজ ও ধূসর। যাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি, তাঁরা সব সময়ই খুব বন্ধুসুলভ ছিলেন।’ খাবার সম্পর্কে তাঁর ধারণা ছিল খুব ঝাল, তাই খুব বেশি ঘাঁটাঘাঁটি করেননি। তবে তিনি ফলপাগল বলে জানান, ‘জায়গাটি ফলের স্বর্গরাজ্য। অনেক ফল খেয়েছি।’ তিনি আহসান মঞ্জিল, পুরান ঢাকা ও লালবাগ ঘুরে দেখেছেন। প্রজেক্টের কারণে সময় কম ছিল, তবে আরও অনেক জায়গা দেখার ইচ্ছা আছে বলে জানান।

বাংলাদেশি শিল্পীদের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা

হান্দে চেভগেল বলেন, ‘বাংলাদেশি শিল্পীদের সঙ্গে কাজ করাই ছিল সবচেয়ে স্মরণীয়। আমাদের মধ্যে আনন্দের ঢেউ ছড়িয়ে পড়েছিল। আমার মনে হয়, তাঁরাও (মাহতিম শাকিব ও নুসরাত জাহান) কাজটি খুব উপভোগ করেছেন। তাঁদের সঙ্গে দেখা হওয়ায় নিজেকে খুব ভাগ্যবান মনে করি।’

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

‘রুমঝুম’ ও তুর্কি লোকসংগীতের মেলবন্ধন

‘রুমঝুম’ গানের সঙ্গে তুর্কি লোকসংগীত ‘উস্কুদারা গিদের ইকেন’ গানের মেলবন্ধন ঘটানো হয়েছে। হান্দে চেভগেল জানান, ‘এটি তুরস্কের একটি কালজয়ী গান। তরুণ থেকে প্রবীণ—সবার কাছেই গানটি ভীষণ আপন। যুগ যুগ ধরে মানুষের মুখে মুখে ফিরছে। এখনো অনেক শিল্পী গানটিকে নতুনভাবে পরিবেশন করেন। বাংলা গানের সঙ্গে গানটি গাইতে পেরে আমি খুবই আনন্দিত।’ প্রথমবার ‘রুমঝুম’ শুনে তিনি গানটির মর্মার্থ ঠিকঠাক বুঝতে পারেননি, তবে গানটি শোনার পর দারুণ অনুভূতি হয়েছিল। সেই অনুভূতিই তাকে ‘রুমঝুম’ গাইতে আগ্রহী করে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

কাজী নজরুল ইসলাম সম্পর্কে জানতেন?

হান্দে চেভগেল স্বীকার করেন, ‘গানটির সঙ্গে যুক্ত হওয়ার আগে কাজী নজরুল ইসলাম সম্পর্কে জানতাম না। তবে ঢাকা গিয়ে দেখেছি, মানুষ তাঁকে কতটা গর্বের সঙ্গে স্মরণ করেন, তাঁকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও মূল্যবান একজন মানুষ হিসেবে তুলে ধরেন। পরে তাঁকে নিয়ে কিছু পড়াশোনা করি, আর স্বীকার করতেই হবে, তাঁকে না চেনাটা আমার ঘাটতি ছিল।’

বাংলাদেশের সংগীত সম্পর্কে পূর্বজ্ঞান

বাংলাদেশের সংগীত সম্পর্কে তিনি জানতেন লাউ ও বাঁশ দিয়ে তৈরি বাদ্যযন্ত্র এবং বিশ্বজুড়ে প্রচলিত সংগীত নোটেশনের বদলে এখানে সারগাম পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়।

তুর্কি সিরিজের জনপ্রিয়তা

হান্দে চেভগেল বলেন, ‘তুর্কি টিভি সিরিজ বিশ্বের অনেক জায়গাতেই খুব জনপ্রিয়। মানুষ যখন আমাকে সিরিজের চরিত্রগুলোর সঙ্গে তুলনা করে, তুর্কি শব্দ চিনতে পারে, কিংবা আমার দেশকে ভালোবাসার কথা বলে, তখন আমার খুব ভালো লাগে।’

ভবিষ্যতে বাংলা গান গাওয়ার ইচ্ছা

হান্দে চেভগেল জানান, ‘বাংলাদেশের সংগীত আমার কাছে খুব স্বতঃস্ফূর্ত ও প্রাণবন্ত মনে হয়। তাই সুযোগ পেলে অবশ্যই আবার গাইতে চাই। ‘রুমঝুম’ গানের শেষভাগে বাংলা অংশ গাইতে আমার ভীষণ ভালো লেগেছে।’

বাংলাদেশি শ্রোতাদের প্রতি বার্তা

তিনি বলেন, ‘‘রুমঝুম’ গানটি খুব দ্রুত অনেক মানুষের মনোযোগ কেড়েছে, সে জন্য সবাইকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। সবাই খুব আন্তরিক, তাঁদের মন্তব্য ও বার্তা আমাকে খুব আনন্দ দিয়েছে। আশা করি, আমরা আরও বেশি করে একসঙ্গে হতে পারব।’