মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতি: ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের দুই সপ্তাহের চুক্তি, কিন্তু লেবাননে হামলা অব্যাহত
প্রায় ছয় সপ্তাহ ধরে চলা ধ্বংসযজ্ঞ ও রক্তপাতের পর মধ্যপ্রাচ্যে এসেছে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র দুই সপ্তাহের জন্য যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছে, যা আপাতত পুরো বিশ্বে স্বস্তি এনেছে। তবে এই যুদ্ধবিরতির মধ্যেও লেবাননে ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত রয়েছে, যার ফলে শান্তিপ্রক্রিয়ার ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
যুদ্ধবিরতির ঘোষণা ও পাকিস্তানের ভূমিকা
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া সময়সীমার ঘণ্টা দুয়েক আগে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা আসে দুই পক্ষ থেকে। এতে মূল ভূমিকা রেখেছে পাকিস্তান, যারা কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনার পথ প্রশস্ত করে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের উদ্যোগে ‘ইসলামাবাদ সংলাপ’ নামে পরিচিত আলোচনা আগামীকাল শুক্রবার শুরু হতে যাচ্ছে, যেখানে যুদ্ধ স্থায়ীভাবে বন্ধের উপায় খুঁজে বের করা হবে।
লেবাননে ইসরায়েলের হামলা ও হুমকি
যুদ্ধবিরতি শুরুর পরও লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলা অব্যাহত রয়েছে। গত বুধবার রাত পর্যন্ত লেবাননে ২৫৪ জন নিহত হয়েছে, এবং হাসপাতালগুলো রক্তাক্ত মানুষে ভরে গেছে। ইরানের ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কোরস (আইআরজিসি) সতর্ক করে দিয়েছে যে, লেবাননে হামলা চলতে থাকলে তারা যুদ্ধবিরতি থেকে সরে ইসরায়েলে হামলার কথা বিবেচনা করতে পারে। এই পরিস্থিতি যুদ্ধবিরতির টেকসইতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
অর্থনৈতিক প্রভাব ও বৈশ্বিক প্রতিক্রিয়া
যুদ্ধবিরতির খবরে জ্বালানি তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ১২০ ডলার থেকে কমে ৯২ ডলারে নেমে এসেছে, এবং বিভিন্ন দেশের শেয়ারবাজার চাঙা হয়েছে। তবে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসসহ বিশ্ব নেতারা সব পক্ষকে যুদ্ধবিরতি মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন, বিশেষ করে লেবাননে হামলা শান্তিপ্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি করতে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
ইরানের ১০ দফা প্রস্তাব ও যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান
ইরান যুদ্ধ বন্ধের জন্য ১০ দফা প্রস্তাব দিয়েছে, যার মধ্যে ইরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসন বন্ধ, মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার, এবং নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার মতো শর্ত অন্তর্ভুক্ত। অন্যদিকে, ট্রাম্প দাবি করেছেন যে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের ১৫ দফা প্রস্তাবের অনেকগুলো মেনে নিয়েছে এবং ইরানকে আর ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করতে দেওয়া হবে না। এই পার্থক্য আলোচনাকে জটিল করে তুলতে পারে।
ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা
গবেষকরা উল্লেখ করেছেন যে, দুই সপ্তাহের এই বিরতি কি শুধুই যুদ্ধের একটি কৌশল, নাকি যুদ্ধ বন্ধের সুযোগ তৈরি হলো, তা এখনই বোঝা যাচ্ছে না। লেবাননে হামলা এবং হরমুজ প্রণালি খোলা রাখা নিয়ে অনিশ্চয়তা শান্তিপ্রক্রিয়াকে হুমকির মুখে ফেলেছে। আগামী দুই সপ্তাহ খুবই কঠিন হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।



