কুয়েতে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানি ড্রোন হামলা: ১৫ সেনা আহত
ইরানের একটি ড্রোন হামলায় কুয়েতের আলি আল সালেম বিমানঘাঁটিতে ১৫ মার্কিন সেনা সদস্য আহত হয়েছেন। সোমবার (৬ এপ্রিল) রাতের বেলায় সংঘটিত এই হামলাটি মার্কিন-ইসরাইলি আগ্রাসনের জবাবে ইরানের প্রতিশোধমূলক আক্রমণের অংশ হিসেবে পরিচালিত হয়েছে।
হামলার বিস্তারিত বিবরণ
সিবিএস নিউজ দুজন মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানিয়েছে, আহত সেনাদের বেশিরভাগই চিকিৎসা শেষে আবার দায়িত্বে ফিরে গেছেন। ইরাক সীমান্ত থেকে প্রায় ৩৭ কিলোমিটার (২৩ মাইল) দূরে অবস্থিত এই বিমানঘাঁটি এ অঞ্চলে মার্কিন সামরিক কার্যক্রমের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত হয়।
আঞ্চলিক উত্তেজনার পটভূমি
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের ওপর যৌথ সামরিক হামলা শুরু করার পর থেকে আঞ্চলিক উত্তেজনা ব্যাপকভাবে বেড়ে গেছে। এই হামলায় দেড় সহস্রাধিক মানুষ নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিও রয়েছেন।
এর জবাবে ইরান ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে, যা ইসরাইল, জর্ডান, ইরাক ও উপসাগরীয় দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে পরিচালিত হয়েছে। এছাড়া হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলেও তারা সীমাবদ্ধতা আরোপ করেছে, যা বৈশ্বিক বাণিজ্যের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
হামলার প্রভাব ও সম্ভাব্য পরিণতি
এই হামলার ফলে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন যে, উত্তেজনা বাড়লে শিগগিরই খাবারের টেবিলে ইরানে হামলার প্রভাব টের পাওয়া যেতে পারে, বিশেষ করে তেলের দাম ও সরবরাহ শৃঙ্খলে বিঘ্ন ঘটতে পারে।
ইরানের এই ধারাবাহিক হামলা উপসাগরীয় আরব দেশগুলোতে ঝাঁকে ঝাঁকে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে মার্কিন স্বার্থকে চ্যালেঞ্জ করছে। আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ঘটনা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।



