ট্রাম্পের বক্তব্য: ইরানের তেল সম্পদ নিয়ন্ত্রণ নিতে পারে যুক্তরাষ্ট্র
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি একটি বিতর্কিত বক্তব্য দিয়েছেন, যেখানে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে চলমান সংঘাতের ফলাফল হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তেল সম্পদের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারে। তিনি এটিকে সামরিক অভিযানের সম্ভাব্য অর্থনৈতিক প্রতিদান হিসেবে তুলে ধরেছেন। এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্পের এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
ব্যবসায়িক দৃষ্টিভঙ্গি ও ভেনেজুয়েলার উদাহরণ
ট্রাম্প তার বক্তব্যে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন, ‘আমার ইচ্ছা হলে—হ্যাঁ, আমি তা করতাম। কারণ আমি প্রথমে একজন ব্যবসায়ী।’ তিনি ভেনেজুয়েলার উদাহরণ টেনে দাবি করেন যে, ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততা ইতোমধ্যেই জ্বালানি খাতে বড় লাভ এনে দিয়েছে। তার ভাষায়, ‘আমরা ভেনেজুয়েলার অংশীদার, এবং ইতোমধ্যে শত শত মিলিয়ন ব্যারেল তেল পেয়েছি।’
মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, ‘অতীতের মার্কিন নীতির তুলনায় এটি ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি— যে জিতবে, সে-ই সব পাবে… আমরা প্রায় ১০০ বছর ধরে এটা করিনি।’ তার মতে, তেল সম্পদের নিয়ন্ত্রণ নিলে যুদ্ধের ব্যয় সহজেই উঠে আসতে পারে এবং এটি ‘যুদ্ধের খরচ বহুবার পুষিয়ে দিয়েছে’।
ইরানের সামরিক দুর্বলতা ও বিশেষজ্ঞদের প্রতিক্রিয়া
ট্রাম্প ইরানকে সামরিকভাবে ‘দুর্বল’ দাবি করে বলেন, ‘ইরানের কার্যকর নৌবাহিনী, বিমান বাহিনী বা আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নেই।’ তবে, বিশেষজ্ঞরা এই প্রস্তাবকে আন্তর্জাতিক আইন ও রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের দিক থেকে বড় ধরনের বিতর্ক সৃষ্টিকারী হিসেবে দেখছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, অন্য দেশের তেল সম্পদের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার এই ধারণা আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি ঝুঁকিপূর্ণ নজির স্থাপন করতে পারে। এটি রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্বের মূলনীতিকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করে এবং বৈশ্বিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হিসেবে কাজ করতে পারে।
আন্তর্জাতিক আইনের সম্ভাব্য লঙ্ঘন
আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন যে, কোনো দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ দখল করার প্রচেষ্টা জাতিসংঘ সনদ ও আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী হতে পারে। এই ধরনের কর্মকাণ্ড বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে এবং ইরানের সাথে সম্পর্কিত অন্যান্য দেশগুলোর প্রতিক্রিয়া উদ্বেগজনক হতে পারে।
ট্রাম্পের এই বক্তব্যের প্রেক্ষাপটে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের যৌথ হামলার ঘটনাপ্রবাহও বিবেচনায় আনা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়েছেন যে, এই ধরনের পদক্ষেপ আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে এবং নতুন করে সংঘাতের সূত্রপাত ঘটাতে পারে।



