গাজায় ইসরাইলি ড্রোন হামলায় নিহত ১০, আন্তর্জাতিক যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন
ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের আশ্রয় নেওয়া একটি স্কুলের কাছে সোমবার ইসরাইলি ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। এই হামলায় অন্তত ১০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং আরও অনেকে আহত হয়েছেন বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া আন্তর্জাতিক যুদ্ধবিরতি চুক্তি উপেক্ষা করে এই হামলা চালানো হয়েছে, যা অঞ্চলে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
হামলার বিস্তারিত বিবরণ
হামলার আগে কিছু ফিলিস্তিনি অভিযোগ করেন যে ইসরাইল-সমর্থিত একটি সশস্ত্র গোষ্ঠী ওই স্কুলে ঢুকে কিছু মানুষকে অপহরণের চেষ্টা করে। এ নিয়ে তাদের সঙ্গে সংঘর্ষও হয় বলে স্থানীয় বাসিন্দা ও চিকিৎসকেরা জানান। সংঘর্ষ চলাকালে, গাজার কেন্দ্রীয় অঞ্চলের মাঘাজি শরণার্থী শিবিরের পূর্ব দিকে ইসরাইলি ড্রোন থেকে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়।
এই হামলায় কতজন সাধারণ নাগরিক নিহত হয়েছেন, তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট নয়। কারণ ঘটনাস্থলটি ছিল ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা, যেখানে অধিকাংশই বাস্তুচ্যুত মানুষ বসবাস করছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শী আহমেদ আল-মাঘাজি জানান, ইসরাইল-সমর্থিত গোষ্ঠীর সদস্যরা তাদের এলাকায় হামলা চালায় এবং গুলি চালায়। বাসিন্দারা নিজেদের ঘরবাড়ি রক্ষার চেষ্টা করলে ইসরাইলি বাহিনী সরাসরি তাদের লক্ষ্য করে হামলা চালায়।
হামাস ও ইসরাইলের দায়-দায়িত্ব
পরে সোমবার এক ভিডিও বার্তায় ওই গোষ্ঠীর এক নেতা দাবি করেন, তারা হামাসের অন্তত পাঁচ সদস্যকে হত্যা করেছে। তবে ভিডিওটির সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। এ বিষয়ে হামাসের পক্ষ থেকে কোনো তাৎক্ষণিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। ২০০৭ সাল থেকে গাজা শাসন করা হামাস ও ইসরাইল—উভয় পক্ষই ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের জন্য একে অপরকে দায়ী করে আসছে।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, যুদ্ধবিরতি শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ৭১৩ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১,৯৪০ জন আহত হয়েছেন। এদিকে, হামাস তাদের অস্ত্র ত্যাগে অনড় থাকায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রস্তাবিত গাজা শান্তি পরিকল্পনার পরবর্তী ধাপ বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এই পরিস্থিতি গাজা অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকে আরও জটিল করে তুলছে বলে বিশ্লেষকরা মত দিচ্ছেন।



