ট্রাম্পের 'এক রাতে গুঁড়িয়ে দেওয়ার' হুমকির কঠোর জবাব দিল ইরানের সেনাবাহিনী
ট্রাম্পের হুমকির কঠোর জবাব দিল ইরান

ট্রাম্পের 'এক রাতে গুঁড়িয়ে দেওয়ার' হুমকির কঠোর জবাব দিল ইরানের সেনাবাহিনী

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানকে 'এক রাতে গুঁড়িয়ে দেওয়ার' হুমকির কড়া জবাব দিয়েছে ইরানের সেনাবাহিনী। দেশটির সামরিক বাহিনী স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছে, ট্রাম্পের আক্রমণাত্মক ভাষা ও অযৌক্তিক হুমকিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলি বাহিনীর বিরুদ্ধে তাদের অভিযান কার্যক্রম কোনোভাবেই ব্যাহত হবে না।

ট্রাম্পের সংবাদ সম্মেলনে হুমকি

ইরানের বিষয়ে জানাতে গতকাল হোয়াইট হাউসে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেখানেই তিনি ইরানকে লক্ষ্য করে বলেছিলেন, 'পুরো দেশটাকে এক রাতেই শেষ করে দেওয়া যায়, আর সেই রাতটা হয়তো আগামীকালই।' ট্রাম্প আরও সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ডেডলাইন পেরিয়ে গেলে ইরানকে 'প্রস্তর যুগে' পাঠিয়ে দেওয়া হবে।

তিনি স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেন, 'তাদের কোনো সেতু থাকবে না। তাদের কোনো বিদ্যুৎকেন্দ্র থাকবে না।' ট্রাম্পের এই আলটিমেটাম অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় মঙ্গলবারই (বাংলাদেশ সময় বুধবার সকাল) সেই রাত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ইরানের সেনাবাহিনীর জবাব

ইরানের সেনাবাহিনী ট্রাম্পের এই হুমকিকে অযৌক্তিক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে আখ্যায়িত করেছে। সামরিক সূত্রগুলো জানায়, দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনী সম্পূর্ণ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং যেকোনো ধরনের আগ্রাসনের মোকাবিলায় প্রস্তুত।

ইরানি সামরিক কর্তৃপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, ট্রাম্পের এই ধরনের হুমকি আন্তর্জাতিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য হুমকিস্বরূপ। তারা জোর দিয়ে বলেছে, মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন বক্তব্যে ইরানের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার প্রতি হুমকি দেখা দিলেও, দেশটি তার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ও আলোচনা

সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্পকে পাশে নিয়ে উপস্থিত ছিলেন যৌথ বাহিনীপ্রধান জেনারেল ড্যান কেইন এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। ট্রাম্প জানান, তিনি বিশ্বাস করেন ইরানের 'বিচক্ষণ' নেতারা 'সৎ বিশ্বাসে' আলোচনা করছেন। তবে তিনি এও স্বীকার করেন যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ফলাফল এখনো অনিশ্চিত রয়ে গেছে।

মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য যৌথ হামলার কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে ইসরাইলি বাহিনীর অংশগ্রহণের সম্ভাবনাও রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে ইরানের সেনাবাহিনীর জবাবটি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে, যা আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিচ্ছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের এই হুমকি এবং ইরানের কঠোর প্রতিক্রিয়া মধ্য প্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এখন উভয় পক্ষকে সংযত হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছে, যাতে পরিস্থিতি আরও অবনতি না ঘটে।