পাকিস্তানের নতুন বিমান হামলায় আফগানিস্তানে উত্তেজনা, তালেবানের বিরুদ্ধে অভিযান চলবে
পাকিস্তানের বিমান হামলায় আফগানিস্তানে উত্তেজনা

পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী আফগানিস্তানের ভেতরে নতুন করে বিমান হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে। দক্ষিণ এশিয়ার দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই রোববার রাতে সীমান্তসংলগ্ন আফগান এলাকায় এই হামলা পরিচালিত হয়।

হামলার লক্ষ্য ও প্রভাব

পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের খবর অনুযায়ী, কান্দাহার প্রদেশে আফগান তালেবান ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর ব্যবহৃত প্রযুক্তিগত অবকাঠামো এবং একটি সরঞ্জাম গুদাম ধ্বংস করা হয়েছে। পাশাপাশি আলাদা এক হামলায় কান্দাহারের একটি সুড়ঙ্গও ধ্বংস করা হয়েছে। পাকিস্তানের দাবি, ওই সুড়ঙ্গে আফগান তালেবান এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)-এর প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম রাখা ছিল।

পাকিস্তানের হুমকি ও তালেবানের প্রতিক্রিয়া

পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, আফগানিস্তানের তালেবান সরকার পাকিস্তানের নিরাপত্তা নিয়ে তাদের উত্থাপিত উদ্বেগের সমাধান না করা পর্যন্ত এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। অন্যদিকে, তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ জানিয়েছেন, পাকিস্তানের হামলায় কান্দাহারে একটি মাদক পুনর্বাসন কেন্দ্র ও একটি খালি কন্টেইনার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও অন্যান্য ঘটনা

কান্দাহারের স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, রোববার রাতে শহরের আকাশে যুদ্ধবিমান উড়তে দেখেছেন এবং বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন। একই সময় সীমান্তবর্তী স্পিন বালদাক ও খোস্ত প্রদেশেও সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে।

জাতিসংঘের তথ্য ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ৫ মার্চের মধ্যে আফগানিস্তানে সহিংসতায় ১৮৫ জন বেসামরিক মানুষ হতাহত হয়েছেন এবং প্রায় ১ লাখ ১৫ হাজার মানুষ নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছেন। এদিকে, আফগানিস্তানে পাকিস্তানের এই বিমান হামলার নিন্দা জানিয়েছে ভারত। তবে পাকিস্তান ভারতের এই সমালোচনা প্রত্যাখ্যান করেছে। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তাহির আন্দরাবি দাবি করেন, আফগানিস্তানের ভূখণ্ড থেকে পরিচালিত সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোকে ভারত সমর্থন দেয়—এ বিষয়টি সবারই জানা। তাই এসব গোষ্ঠীর ক্ষয়ক্ষতিতে ভারতের হতাশা প্রকাশ করা স্বাভাবিক বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

এই ঘটনায় আফগানিস্তানে মানবিক সংকট আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।