ইরানে মার্কিন-ইজরায়েলি হামলায় নিহত ১২০০, শিশু ও নারীরা প্রধান শিকার
ইরানে হামলায় নিহত ১২০০, শিশু-নারী শিকার

ইরানে মার্কিন-ইজরায়েলি হামলায় ভয়াবহ প্রাণহানি: নিহত ১২০০, শিশু ও নারীরা ক্ষতিগ্রস্ত

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানে শুরু হওয়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের যৌথ সামরিক হামলায় নিহতের সংখ্যা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে, যা পুরো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলকে এক গভীর সংকটের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা ফারস নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ১২০০ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন, যার মধ্যে দেশটির সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিও রয়েছেন।

শিশু ও নারীদের ওপর ভয়াবহ আঘাত

নিহতদের তালিকায় বিশেষভাবে উদ্বেগজনক হলো শিশু ও নারীদের উচ্চ সংখ্যা। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, দখলদার বাহিনীর হামলায় অন্তত ২২৩ জন নারী এবং ২০২ জন শিশু প্রাণ হারিয়েছেন। এই মর্মান্তিক মিছিলে আরও রয়েছে ৩ জন অন্তঃসত্ত্বা নারী এবং ৫ বছরের কম বয়সী ১২টি শিশু, যা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের লঙ্ঘন হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে।

রোববার (১৫ মার্চ) প্রকাশিত এক সরকারি বিবৃতিতে তেহরান স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, কেবল প্রাণহানিই নয়, এই বর্বরোচিত হামলায় ৪১ জন শিশু গুরুতর জখম হয়েছে, যাদের অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক। আহতদের সেবা দিতে সাধারণ হাসপাতালগুলো যুদ্ধের ডামাডোলে হিমশিম খাচ্ছে, যা মানবিক বিপর্যয়কে আরও তীব্র করছে।

স্বাস্থ্য খাতের অপূরণীয় ক্ষতি

ইরানের সরকারি বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে যে, বিদেশি আগ্রাসনে দেশটির স্বাস্থ্য খাতের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। সারা দেশে অন্তত ১৫৩টি স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও হাসপাতাল লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে, যা ইরানের চিকিৎসাসেবা ব্যবস্থাকে প্রায় অচল করে দিয়েছে। এই ধ্বংসযজ্ঞের ফলে:

  • আহত ও অসুস্থ রোগীদের পর্যাপ্ত চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
  • স্বাস্থ্যকর্মীরা নিরাপত্তাহীনতায় কাজ করছেন।
  • দেশব্যাপী চিকিৎসাসেবার মান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এই পরিস্থিতি ইরানের সাধারণ জনগণের জন্য এক ভয়াবহ স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করেছে, বিশেষ করে শিশু ও গর্ভবতী নারীদের মধ্যে সংক্রমণ ও অন্যান্য রোগের প্রাদুর্ভাব বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

পাল্টা হামলা ও আঞ্চলিক উত্তেজনা

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই ইরান পাল্টা আঘাত শুরু করেছে, যা পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে অস্থিতিশীল করে তুলছে। ইরান ইজরায়েল ছাড়াও জর্ডান, ইরাক এবং পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোতে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে। এই পাল্টাপাল্টি হামলার ফলে:

  1. আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা মারাত্মকভাবে বিপন্ন হয়েছে।
  2. নিরীহ বেসামরিক জনগণের জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।
  3. অর্থনৈতিক ও সামাজিক অবকাঠামো ধ্বংসের মুখোমুখি হচ্ছে।

দুই পক্ষের এই সংঘাত পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে এখন এক ভয়াবহ আগ্নেয়গিরির মুখে দাঁড় করিয়েছে, যেখানে যেকোনো মুহূর্তে বৃহত্তর যুদ্ধের সূত্রপাত হতে পারে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ত্বরিত হস্তক্ষেপ ও শান্তি আলোচনার আহ্বান জানানো হচ্ছে এই সংকট নিরসনের জন্য।