ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় পশ্চিম তীরে অগ্নিকাণ্ড, তিন ইসরাইলি আহত
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় পশ্চিম তীরে অগ্নিকাণ্ড

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় পশ্চিম তীরে অগ্নিকাণ্ড, তিন ইসরাইলি আহত

ইরানের সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরাইলের দখলকৃত পশ্চিম তীর অঞ্চলে ব্যাপক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, যার ফলে অন্তত তিনজন ইসরাইলি নাগরিক আহত হয়েছেন। এই হামলা চলমান সংঘাতের ১৬তম দিনে সংঘটিত হয়েছে, যা ইরানের পক্ষ থেকে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

হামলার বিস্তারিত বিবরণ

ইরানের সেনাবাহিনী তেল আবিবসহ মধ্য ইসরাইলের বিভিন্ন এলাকায় একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, হামলার পর পশ্চিম তীরে বিকট শব্দ শোনা যায় এবং আকাশে আলোর ঝলকানি দেখা দেয়, যা পরবর্তীতে বিভিন্ন স্থাপনায় দাউ দাউ করে আগুন লাগার দৃশ্যের সূচনা করে। প্রচণ্ড ধোঁয়ায় চারপাশ কালো হয়ে যায়, এবং বিশাল অগ্নিকাণ্ড ও ধোঁয়ার কুণ্ডলী সৃষ্টি হয়।

ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে যে তারা অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে, তবে কিছু ক্ষেপণাস্ত্রের ভগ্নাংশ বা আকাশ থেকে পড়া ধ্বংসাবশেষের আঘাতে আহতদের সংখ্যা বাড়ছে। মধ্য ইসরাইলের বেশ কিছু এলাকায় ক্ষয়ক্ষতির খবরও পাওয়া গেছে, যা এই হামলার তীব্রতা নির্দেশ করে।

স্থানীয় প্রতিবেদনের ভাষ্য

পশ্চিম তীরে অবস্থানরত রিপোর্টার নিদা ইব্রাহিম হুয়ারা থেকে জানান, ইরানের হামলার পর সতর্কতামূলক সাইরেন বাজতে শুরু করে এবং কিছুক্ষণের মধ্যে আকাশে আলোর ঝলকানি দেখা যায়। তিনি উল্লেখ করেন যে স্থানীয় বেশ কয়েকটি স্থাপনায় অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে, যা এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছে।

পটভূমি ও আঞ্চলিক প্রভাব

এই হামলার পটভূমিতে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ আগ্রাসন শুরু হয়, যা পুরো মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত ছড়িয়ে দেয়। ইরান এর প্রতিক্রিয়ায় উপসাগরীয় দেশগুলোর মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনাগুলোতে আঘাত হানে, এবং বিশ্ব তেল বাজারে ব্যাপক প্রভাব ফেলে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার মাধ্যমে। এই পদক্ষেপ তেল করিডোরের উপর নির্ভরশীল বৈশ্বিক অর্থনীতিতে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

ইরানের পক্ষ থেকে এই হামলাকে 'গণহত্যাকারী ইসরাইল ও তাদের সহযোগী যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসনের সমুচিত জবাব' হিসেবে বর্ণনা করা হচ্ছে, এবং ইসলামি প্রজাতন্ত্রের সেনারা কোনো বিশ্রামের সুযোগ না দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এই সংঘাতের ফলে আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে, এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজর এখন এই অঞ্চলের দিকে কেন্দ্রীভূত হয়েছে।