শ্রীলঙ্কা উপকূলে ইরানি যুদ্ধজাহাজ ডুবিয়ে মার্কিন জেনারেলদের সমালোচনা ট্রাম্পের
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শ্রীলঙ্কা উপকূলে ইরানের নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ ‘ডেনা’ ডুবিয়ে দেওয়া এবং ক্রু সদস্যদের হত্যা করার ঘটনায় নিজের সেনা কর্মকর্তাদের ওপর অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। গত সপ্তাহে ভারত থেকে মহড়া শেষে ফেরার পথে মার্কিন সাবমেরিনের হামলায় জাহাজটি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়। এই ঘটনায় বেশ কয়েকজন ইরানি নৌসেনা নিহত হন, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
নির্বাচনী র্যালিতে ট্রাম্পের বক্তব্য
বৃহস্পতিবার কেনটাকির হেবরন এলাকায় এক নির্বাচনী র্যালিতে ট্রাম্প এই ঘটনার প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, তিনি তার জেনারেলদের জিজ্ঞেস করেছিলেন কেন ইরানি নৌসেনাদের আটক না করে হত্যা করা হলো। ট্রাম্পের ভাষায়, ‘আমি বলেছি, কেন আমরা তাদের হত্যা করলাম? কেন তাদের আটক করে আমাদের নৌবাহিনীতে কাজে লাগালাম না?’ এই প্রশ্নের মাধ্যমে তিনি সেনা কর্মকর্তাদের যুদ্ধংদেহী মনোভাবের প্রতি সরাসরি সমালোচনা করেন।
জেনারেলদের প্রতিক্রিয়া এবং ট্রাম্পের হতাশা
জবাবে এক জেনারেল তাকে জানিয়েছেন যে, ইরানি সেনারা মার্কিন বাহিনীর সমকক্ষ হওয়ার যোগ্য নয়। আরও চমকপ্রদভাবে, ট্রাম্প উল্লেখ করেন যে একজন জেনারেল তাকে সরাসরি বলেছেন যে আটকের চেয়ে তাদের ‘হত্যা করা বেশি মজার’। কর্মকর্তাদের এমন উত্তরে তিনি কিছুটা হতাশ হয়েছেন বলে র্যালিতে স্পষ্টভাবে জানান। এই বক্তব্য সেনা প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ মনোভাবের একটি উদ্বেগজনক দিক সামনে এনেছে।
হরমুজ প্রণালীতে ইরানি জাহাজ ধ্বংসের দাবি
এছাড়া ট্রাম্প হরমুজ প্রণালীর কাছে গত দুই দিনে ইরানের অন্তত ৫৪টি জাহাজ মার্কিন সেনারা ধ্বংস করেছে বলেও দাবি করেন। এই দাবি বর্তমানে এই অঞ্চলের সমুদ্রসীমায় বিরাজমান উত্তেজনার মাত্রাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইরানি জাহাজের ওপর অতর্কিত হামলার বিষয়টি আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য একটি বড় হুমকি হিসেবে দেখা দিতে পারে।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া এবং ভবিষ্যৎ প্রভাব
ট্রাম্পের এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার সূত্রপাত করেছে। বিশেষ করে সেনা কর্মকর্তাদের যুদ্ধংদেহী মনোভাব এবং ইরানি জাহাজের ওপর অতর্কিত হামলার বিষয়টি সামনে এসেছে। বর্তমানে এই অঞ্চলের সমুদ্রসীমায় উত্তেজনা বিরাজ করছে, যা ভবিষ্যতে আরও সংঘাতের সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। এই ঘটনা মার্কিন-ইরান সম্পর্কের জটিলতাকে নতুন মাত্রা দিয়েছে এবং বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে এর প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
