ইরান ও হিজবুল্লাহর যৌথ হামলা: ইসরায়েলে ১০০ রকেট নিক্ষেপ, উত্তেজনা তীব্র
ইরান-হিজবুল্লাহর যৌথ হামলায় ইসরায়েলে ১০০ রকেট

ইরান ও হিজবুল্লাহর সমন্বিত হামলায় ইসরায়েলে আতঙ্ক

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা চরমে উঠেছে। ইরানের সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সঙ্গে তাল মিলিয়ে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ ইসরায়েল অভিমুখে একযোগে বিপুলসংখ্যক রকেট ও ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। আল-জাজিরা ও ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, বুধবার (১১ মার্চ) ইরান ও হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে অন্তত ১০০টি রকেট ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে।

তিন দফায় বড় ধরনের রকেট হামলা

লেবানন থেকে আল-জাজিরার প্রতিনিধি জানিয়েছেন, মাত্র কয়েক মিনিটের ব্যবধানে উত্তর ইসরায়েলে অন্তত তিন দফায় বড় ধরনের রকেট হামলা চালায় হিজবুল্লাহ। এই আক্রমণটি এমন সময়ে করা হয়েছে যখন ইরানও ইসরায়েলি ভূখণ্ড লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ছিল। এই দ্বিমুখী হামলার ফলে পুরো ইসরায়েলজুড়ে বড় ধরনের আতঙ্ক ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছে।

ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমগুলোর দাবি, ইরান ও হিজবুল্লাহর যৌথ এই হামলায় অন্তত ১০০টি প্রক্ষেপক ব্যবহার করা হয়েছে। হামলার পরপরই উত্তর ইসরায়েলের কিরিয়াত শমোনা ও হাইফা শহরে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এসব এলাকায় অনবরত সতর্কতামূলক সাইরেন বাজছে এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় রয়েছে বলে জানা গেছে।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর জরুরি নির্দেশনা

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী নাগরিকদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার জরুরি নির্দেশ দিয়েছে। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় সীমান্তবর্তী শহরগুলোর বাসিন্দাদের বাঙ্কারে অবস্থানের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই হামলার ফলে ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলে জীবনযাত্রা প্রায় অচল হয়ে পড়েছে এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যে এই বড় ধরনের রকেট হামলা আঞ্চলিক নিরাপত্তা সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, এই ঘটনা ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে সরাসরি সংঘাতের দিকে নিয়ে যেতে পারে, যা পুরো অঞ্চলের জন্য ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে।

বর্তমানে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী হামলার উৎস চিহ্নিত করে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই সংকট নিরসনে জরুরি আলোচনার আহ্বান জানালেও পরিস্থিতি এখনও অত্যন্ত অনিশ্চিত ও উত্তপ্ত রয়ে গেছে।