হরমুজ প্রণালীতে তিনটি জাহাজে হামলা: আন্তর্জাতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি
পারস্য উপসাগরের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬ তারিখে, পৃথক তিনটি কার্গো জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটেছে। অজ্ঞাত বস্তুর আঘাতে এই জাহাজগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার মধ্যে একটি জাহাজে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি এবং ব্রিটিশ মেরিটাইম সিকিউরিটি এজেন্সি (ইউকেএমটিও) এই হামলার তথ্য নিশ্চিত করেছে, যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
জাহাজগুলোর অবস্থা ও ক্ষয়ক্ষতি
সামুদ্রিক নিরাপত্তা সূত্রগুলো জানিয়েছে, হামলার শিকার জাহাজগুলোর মধ্যে থাইল্যান্ডের পতাকাবাহী বাল্ক ক্যারিয়ার ‘মায়ুরি নারি’ ওমানের ১১ নটিক্যাল মাইল উত্তরে আক্রান্ত হয়। এই হামলায় জাহাজটির ইঞ্জিন রুমে আগুন ধরে যায়, ফলে জরুরি ভিত্তিতে বেশিরভাগ নাবিককে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। তবে পরবর্তীতে ইউকেএমটিও জানায়, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে এবং বড় ধরনের কোনো পরিবেশগত বিপর্যয় ঘটেনি। বর্তমানে জাহাজটিতে কেবল প্রয়োজনীয় সংখ্যক নাবিক অবস্থান করছেন।
এদিকে, জাপানের পতাকাবাহী কন্টেইনার জাহাজ ‘ওয়ান ম্যাজেস্টি’ সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাস আল খাইমাহর ২৫ নটিক্যাল মাইল উত্তর-পশ্চিমে হামলার শিকার হয়েছে। জাহাজটি সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত হলেও এর নাবিকরা সম্পূর্ণ নিরাপদ আছেন এবং বর্তমানে এটি একটি নিরাপদ নোঙরস্থানের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। তৃতীয় হামলার শিকার হয়েছে মার্শাল আইল্যান্ডসের পতাকাবাহী জাহাজ ‘স্টার গুইনেথ’। মেরিটাইম ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কোম্পানি ভ্যানগার্ড জানিয়েছে, দুবাইয়ের প্রায় ৫০ মাইল উত্তর-পশ্চিমে আঘাতের ফলে জাহাজটি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও সব নাবিক সুরক্ষিত আছেন।
হরমুজ প্রণালীর কৌশলগত গুরুত্ব ও প্রভাব
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এই অঞ্চলে সংঘাত শুরু হওয়ার পর এই হামলাগুলো অত্যন্ত উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি করেছে। উল্লেখ্য যে, বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়, যা বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল। সংঘাত শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৪টি জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটেছে, ফলে এই রুট দিয়ে সাধারণ জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে। এই অবস্থা বিশ্বব্যাপী তেল ও গ্যাসের সরবরাহে নতুন সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বৃদ্ধির সম্ভাবনা বাড়িয়ে তুলতে পারে।
এই হামলাগুলো হরমুজ প্রণালীতে নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়িয়ে দিয়েছে এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধির পাশাপাশি বৈশ্বিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি সৃষ্টি করেছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দ্রুত হস্তক্ষেপ ও সমন্বিত পদক্ষেপের মাধ্যমে এই সংকট মোকাবেলা করা এখন সময়ের দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
