ইরানের হামলায় কুয়েত ও বাহরাইনে মার্কিন ঘাঁটিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত বেশ কয়েকটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে। বুধবার (১১ মার্চ ২০২৬) এক বিবৃতিতে এই হামলার তথ্য নিশ্চিত করেছে ইরান। আমেরিকা ও ইসরাইলের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের অংশ হিসেবে এই সমন্বিত হামলা পরিচালিত হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
বাহরাইনের মার্কিন নৌঘাঁটিতে লক্ষ্যবস্তু
আইআরজিসি-র নিজস্ব ওয়েবসাইট ‘সেপাহ নিউজ’-এ প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাহরাইনের মিনা সালমান বন্দরে অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের প্রধান স্নায়ু কেন্দ্র এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। উল্লেখ্য, মিনা সালমান বন্দরটি এই অঞ্চলে মার্কিন নৌ-তৎপরতার অন্যতম প্রধান ঘাঁটি হিসেবে বিবেচিত হয়।
কুয়েতের একাধিক ঘাঁটিতে সমন্বিত হামলা
একই সঙ্গে কুয়েতেও সমন্বিত হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে আইআরজিসি। তাদের দেওয়া তথ্যমতে, কুয়েতের ক্যাম্প প্যাট্রিয়ট, মোহাম্মদ আল-আহমাদ এবং আলি আল-সালেম নৌ-ঘাঁটিতে মার্কিন সৈন্যদের আবাসন, সরঞ্জাম রাখার হ্যাঙ্গার এবং জমায়েত হওয়ার কেন্দ্রগুলো ব্যাপক ক্ষতির শিকার হয়েছে। এছাড়া ক্যাম্প বুয়েরিং নামের আরেকটি মার্কিন ঘাঁটিতেও তেহরান হামলা চালিয়েছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
হামলার উদ্দেশ্য ও ফলাফল
বিপ্লবী গার্ড কর্পস জানিয়েছে, আমেরিকান সৈন্যদের আবাসন এবং সামরিক সরঞ্জাম লক্ষ্য করে এই হামলাগুলো চালানো হয়েছে এবং এতে মার্কিন পক্ষ বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। এই হামলাগুলো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে চলমান সংকটের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে। ইরানের এই পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল জোটের বিরুদ্ধে তাদের সামরিক শক্তি প্রদর্শনের একটি স্পষ্ট বার্তা বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
বর্তমান পরিস্থিতিতে আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এখনও এই হামলার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা এই ঘটনাকে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান প্রক্ষিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে বিবেচনা করছেন।
