ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধে অস্ত্র মজুত সংকট: ট্রাম্পের জরুরি পদক্ষেপ
ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান সংঘাতের সপ্তম দিনে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানের লাগাতার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা মোকাবিলা করতে গিয়ে ইসরায়েলের আয়রন ডোম, ডেভিডস স্লিং এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্যাট্রিয়ট ব্যাটারিগুলোর ক্ষেপণাস্ত্র মজুত আশঙ্কাজনক হারে কমে আসায় এবার বড় ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
অস্ত্র উৎপাদন চারগুণ বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত
শুক্রবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম প্রতিরক্ষা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে একটি সফল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই বৈঠকে উৎপাদন ও উৎপাদন সময়সূচি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।
ট্রাম্প দাবি করেন, বড় কোম্পানিগুলো তাদের উচ্চ-প্রযুক্তির নিখুঁত মারণাস্ত্রের উৎপাদন চার গুণ বাড়াতে রাজি হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই অস্ত্র উৎপাদন বাড়ানোর প্রক্রিয়াটি তিন মাস আগে থেকেই শুরু হয়েছে এবং অনেক কারখানা ইতোমধ্যে এসব অস্ত্রের উৎপাদন কার্যক্রম চালু রেখেছে।
তেহরানের কৌশলে মার্কিন-ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হুমকির মুখে
তেহরানের একসঙ্গে ঝাঁকে ঝাঁকে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার কৌশলে মার্কিন-ইসরায়েলি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাগুলো এখন সরাসরি হুমকির সম্মুখীন। এই পরিস্থিতিতে দীর্ঘমেয়াদে ক্ষেপণাস্ত্রের জোগান নিশ্চিত করা নিয়ে গভীর সংশয় তৈরি হয়েছে। ট্রাম্প তার বক্তব্যে জোর দিয়ে বলেন, "আমরা যত দ্রুত সম্ভব বিপুল পরিমাণ অত্যাধুনিক অস্ত্রের মজুত গড়ে তুলতে চাই।"
মাঝারি মানের গোলাবারুদের জোগানও বৃদ্ধি
অত্যাধুনিক অস্ত্রের পাশাপাশি মাঝারি মানের গোলাবারুদের মজুত নিয়েও মুখ খুলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, "আমাদের কাছে মাঝারি এবং উচ্চ-মাঝারি মানের গোলাবারুদের কার্যত সীমাহীন জোগান রয়েছে।" উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেছেন, এগুলো বর্তমানে ইরানে এবং সম্প্রতি ভেনেজুয়েলায় ব্যবহার করা হচ্ছে। এসব অস্ত্রের অর্ডারও ইতোমধ্যে বাড়ানো হয়েছে বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন।
প্রতিরক্ষা কোম্পানিগুলোর সঙ্গে বৈঠক
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় প্রতিরক্ষা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধান নির্বাহীরা উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
- বিএই সিস্টেমস
- বোয়িং
- হানিওয়েল অ্যারোস্পেস
- এলথ্রি-হ্যারিস
- লকহিড মার্টিন
- নর্থরপ গ্রামম্যান
- রেথিওন
আগামী দুই মাসের মধ্যে তাদের সঙ্গে পরবর্তী বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
নতুন কারখানা স্থাপনে অঙ্গরাজ্যগুলোর প্রতিযোগিতা
এদিকে, নতুন অস্ত্র কারখানা স্থাপনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের মধ্যে রীতিমতো প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। ট্রাম্প তার পোস্টে জানিয়েছেন, সারা দেশের অঙ্গরাজ্যগুলো এসব নতুন প্ল্যান্ট কারখানা স্থানের জন্য দরপত্র আহ্বান করছে। এই পদক্ষেপ যুদ্ধ পরিস্থিতিতে অস্ত্রের জোগান নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান এই সংঘাত বিশ্বব্যাপী নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই জরুরি পদক্ষেপ আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে কতটা কার্যকর হবে, তা এখনই সময়ের অপেক্ষা।



