ইসরাইলে জরুরি অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দিল যুক্তরাষ্ট্র, মূল্য ১৫ কোটি ১৮ লাখ ডলার
ইসরাইলে জরুরি অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দিল যুক্তরাষ্ট্র

ইসরাইলে জরুরি অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দিল যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক যুদ্ধের মধ্যেই ইসরাইলের কাছে জরুরি অস্ত্র বিক্রির সম্ভাব্য অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। স্থানীয় সময় শনিবার (৭ মার্চ ২০২৬) মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এ অনুমোদন প্রদান করে। অনুমোদিত অস্ত্র প্যাকেজের মূল্য ধরা হয়েছে প্রায় ১৫ কোটি ১৮ লাখ মার্কিন ডলার।

বিশেষ প্রক্রিয়ায় তাৎক্ষণিক অস্ত্র বিক্রি

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, ইসরাইল সরকারের কাছে তাৎক্ষণিকভাবে অস্ত্র বিক্রির লক্ষ্যে একটি বিশেষ প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হয়েছে। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অস্ত্র সরবরাহের গতি বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

অস্ত্রের এই প্যাকেজে বিএলইউ-১১০এ/বি বোমা এবং লজিস্টিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের বক্তব্য অনুযায়ী, এই অস্ত্র বিক্রি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতিকে সমর্থন করবে এবং মধ্যপ্রাচ্যের একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মিত্রের নিরাপত্তা জোরদার করতে সাহায্য করবে।

পটভূমি: ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা

এই অনুমোদনের পটভূমিতে রয়েছে ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা। গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২১ দিন ধরে ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সংলাপ চলে। ২৭ ফেব্রুয়ারি কোনো প্রকার সমঝোতা চুক্তি ছাড়াই সেই সংলাপ শেষ হয়।

তার পরের দিন ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে 'অপারেশন এপিক ফিউরি' শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। ওয়াশিংটনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে একই সময়ে ইরানে সামরিক অভিযান 'অপারেশন রোয়ারিং লায়ন' শুরু করে ইসরাইলও।

হামলার পাল্টা জবাব হিসেবে ইসরাইল ও মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন সেনাঘাঁটিগুলোতে দফায় দফায় ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করছে ইরান। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ যুদ্ধে ইরানকে গোয়েন্দা সহায়তা দিচ্ছে রাশিয়া।

অস্ত্র বিক্রির প্রভাব

এই জরুরি অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

  • ইসরাইলের প্রতিরক্ষা ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে
  • মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত অবস্থান শক্তিশালী হবে
  • ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতে নতুন মাত্রা যোগ হতে পারে
  • আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সম্পর্কে প্রভাব পড়তে পারে

মার্কিন কর্তৃপক্ষের দাবি, এই অস্ত্র বিক্রি শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়ক হবে। তবে বিরোধী মতামত রয়েছে যে এটি আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।